মা তো মা-ই। হোক না কেন সৎ, তবুও তো সে মা। এ কারণে বাবার বাড়িতে জোর করে রাখতে চাওয়ায় কোনো প্রকার সন্দেহ হয়নি ২২ বছরের তরুণীর। তবে এরপরের ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনা মনে পড়লেই এখনো শিউরে উঠছেন ওই তরুণী।
ঘটনাটি হলো- এক যুবককে দিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করিয়েছে ওই তরুণীর সৎ মা। এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের নিমতার বিশরপাড়া নবনগর সাহাপাড়া এলাকায়।
সোমবার (৫ মার্চ) রাতে মেয়েকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগে ওই তরুণীর সৎ মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, ধর্ষণের বিনিময়ে ওই যুবকের কাছ থেকে টাকা নেয় ওই তরুণীর সৎ মা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে। ওই যুবকের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাকে আটক করতে জোর চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় হতবাক হয়েছেন ওই তরুণীর বাবা।
বিশরপাড়ার নবনগর সাহাপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে থাকেন অভিযুক্ত ওই নারী। পেশায় নিরাপত্তারক্ষী ওই ব্যক্তি তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর প্রথম পক্ষের মেয়ের সঙ্গে ঝামেলা লেগে থাকত সৎ মায়ের।
ওই তরুণীর বাবা জানান, তার প্রথম পক্ষের মেয়েকে দেখতে পারত না ওর সৎ মা। বছরখানেক আগে মেয়ের বিয়ে দেন বাবা। মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনতে গেলে ঝামেলা করত সৎ মা। ফলে মেয়ে বাপের বাড়ি আসতেন না। এলেও রাতে ফিরে যেতেন।
নির্যাতনের শিকার তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, দিন কয়েক আগে সৎ মা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তাকে বাপের বাড়িতে আনতে চায়। রাজি হননি তিনি। কিন্তু সৎ মা তাকে মিষ্টি কথায় রাজি করান। বাপের বাড়ি এলেও রাতে শ্বশুরবাড়ি ফিরতে চান তরুণী। কিন্তু সৎ মা বলেন, ‘রাতটুকু থেকে যা। তোর বাবা বাড়ি ফিরলে দেখা হবে।’ সেই কথায় বিশ্বাস করে রাতে বাড়িতেই থেকে যান ওই তরুণী।
ভূক্তভোগী ওই তরুণী জানান, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এক যুবককে তার ঘরে ঢুকিয়ে দেন তার সৎ মা। ভয় পেয়ে তিনি ঘর থেকে বেরোবার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘরের দরজা বাইরে থেকে সৎ মা বন্ধ করে দিয়ে ছিল। এরপর ঘরে একা পেয়ে ওই যুবক তাকে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনার পরে সৎ মা এবং ওই যুবক তাকে হুমকি দেয়, এই বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তার স্বামীকে হত্যা করা হবে। পরের দিনও তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়নি।
ওই তরুণী ঘটনার দুদিন পরে শ্বশুর বাড়ি ফিরে স্বামীকে সব জানান। এরপর সোমবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিমতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই রাতেই অভিযুক্ত সৎ মাকে গ্রেফতার করা হয়।
তরুণীর বাবা বলেন, ‘যে দিন এই ঘটনা ঘটে ওইদিন আমি অনেক রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফিরি। মেয়েকে মনমরা দেখে মনে হয়েছিল ফের মায়ের সাথে ঝামেলা হয়েছে তার। আমি ভাবতেই পারছি না, কোনো মা এমন কাজ করতে পারে!





