জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন পর্যায়ক্রমে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করবে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই ৫ টি সিটিতেই নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করেছে। সিলেট, রাজশাহী এবং বরিশালের পর প্রধানমন্ত্রী খুলনা সফরেও যাচ্ছেন।

২০১৪’র জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও বিএনপি সব সিটি নির্বাচনেই অংশ নিয়েছিল। তারা ওইসব নির্বাচনে ভালো ফলাফলও করেছিল। ২০১৪ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত এই পাঁচটি সিটিতেই বিএনপি জয়ী হয়। কিন্তু এবার সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা তা নিয়ে বিএনপিতে সৃষ্টি হয়েছে মতবিরোধ।

দলের অধিকাংশ নেতা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও, তারেক জিয়ার অনুসারীরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ শর্তযুক্ত রাখতে চায়। বিএনপিতে তারেক জিয়ার অনুসারীরা বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।

তারেক জিয়ার অনুসারী বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন, ‘ বেগম জিয়াকে জেলে রেখে কোনো নির্বাচনেই আমরা যাবো না, হোক তা স্থানীয় নির্বাচন।’

তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা মনে করেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের সঙ্গে সিটি নির্বাচনকে জড়িয়ে ফেলা ঠিক হবে না।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘পাঁচটি সিটিতে আমাদের মেয়র থাকায়, সেখানে সংগঠনের শক্তি বেড়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশ ও প্রশাসনের নিপীড়ন কমেছে। এটা দলের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। এখন যদি আমরা এই নির্বাচনে অংশ না নেই, তাহলে সরকার ফাঁকা মাঠেই গোল দেবে।’

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য মনে করেন, ‘সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। এর ফলে আওয়ামী লীগ এক তরফা জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সেল করার সুযোগ পাবে।’ ওই নেতা আরও বলেন, ‘এতে সরকার আরও শক্তিশালী হবে।’

কিন্তু সিনিয়র নেতারা যেরকম মনোভাবই পোষণ করেন না কেন, বিএনপি চলে জিয়া পরিবারের নির্দেশে। আন্দোলনকে বেগবান করার কৌশল হিসেবেই তারেক জিয়া চান বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া সিটি নির্বাচন বর্জন।

তারেক জিয়াপন্থীরা মনে করেন, এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন তীব্রতা পাবে। এই আন্দোলন ‘এক তরফা জাতীয় সংসদ’ নির্বাচনকে ‘প্রতিহত’করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বিএনপির টিকেট নিয়ে যারা গতবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল, তারা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে, বিএনপির অন্যতম শরিক জামাত জানিয়েছে, ৫ সিটিতেই মেয়র পদে একক প্রার্থী দেবে তারা।