চলতি বছরের শেষেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই হিসেবে আর ১০ মাসও বাকি নেই নির্বাচনের। দলগোছানোর পাশাপাশি বড় দলগুলো কাজ করছে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে।

ভোটার টানতে নির্বাচনী ইশতেহার বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সব রাজনৈতিক দলই ইশতেহারের চমক দেওয়ার চেষ্টা করে। দেশের বড় তিনটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহার নিয়ে বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরা হলো:

আওয়ামী লীগ:
ইশতেহারে জাতিকে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে থাকবে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার। অর্জন ও ব্যর্থতার পাশাপাশি শুধরে নেওয়ার লক্ষ্যে তুলে ধরা হবে ভুলগুলোও।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইশতেহার তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন চারজন নেতা। তারা হলেন— দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তারা দলের বিগত নির্বাচনী ইশতেহারে সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশের সময়োপযোগী চাহিদার ওপর বেশি প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকারের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকবে ইশতেহারে।

জানা গেছে, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ১০ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক ২১টি খাতে চলমান অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ করণীয়ও স্পষ্ট করা হবে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে উন্নয়ন ও সুশাসন। এর মধ্যে রয়েছে— দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও আইসিটি, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্লু ইকোনমির উন্নয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ এবং গণমুখী দক্ষ জনপ্রশাসন। কৃষি ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, বেকারত্ব দূরীকরণ, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, দক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমশক্তি বিদেশ পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর আগামী ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জাতীয় পার্টি:
সংসদের এই বিরোধী দল তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইশতেহার তৈরি করছে। এগুলো হলো, প্রাদেশিক সরকার, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রবর্তন।

জাতীয় পার্টি নিজেদের শক্তি জানান দিতে নির্বাচনের আগেভাগেই ইশতেহার ঘোষণা করতে চায়। নির্বাচনী ইশতেহারে — ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার মাধ্যমে সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা পুনঃস্থাপন, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণমুক্ত করা, মাদক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদানসহ আট থেকে ১০টি বিষয় থাকছে।

বিএনপি:
দলটির চেয়ারপারসনের মুক্তির পর নির্বাচনী প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করা হবে। তখনই করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেক নেতা-কর্মীর প্রতি নিজেকে সুস্থ রাখাসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দল থেকে। সেগুলোর মধ্যে প্রথম নির্দেশনাটিই হলো- নিজেকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখা। দ্বিতীয়ত, দলীয় ঐক্য ধরে রেখে সম্মিলিতভাবে দল গৃহীত সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা এবং বিপদগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। তৃতীয়ত, আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ। পাশাপাশি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা। দলের নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্য থেকে।

দলটির একাধিক নেতা বলেছেন, আগে চেয়ারপারসনের কারামুক্তি, তারপর অন্যান্য কার্যক্রম। তবে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিটা ‘অটোমেটিক্যালি’ই হয়ে যায়। তা ছাড়া নির্বাচনী প্রস্তুতি আমাদের সব সময়ই রয়েছে।