খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কি ভুল পথে হাঁটছেন? নাকি তাঁরা ইচ্ছে করেই বেগম জিয়ার সর্বনাশ ডেকে আনছেন? রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন নিয়ে হাইকোর্টে আইনজীবীদের কাণ্ডকারখানা দেখে শুধু বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রশ্ন এসেছে।

বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সূচনা হয় ২০০৮ সালে। সেসময় ক্ষমতায় ছিল ওয়ান ইলেভেন সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই দুটি মামলা নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা চোর পুলিশ খেলেছে।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, সেই সময়ই যদি মামলাটি আমরা নিষ্পত্তি করে ফেলতাম, তাহলে আজকে অবস্থা সৃষ্টি হতো না।’ কিন্তু নিষ্পত্তির পথে না নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা কালক্ষেপণের পথে গেছে। একবার হাইকোর্ট, একবার আপিল বিভাগ-এভাবে মামলাটিকে এক্সপোজ করে দিয়েছে। মামলাটিতে বেগম জিয়ার দূর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য মনে করেন, ‘যখন যুদ্ধাপরাধীদের ইস্যুতে সরকার ব্যস্ত তখন এই মামলা সেরে ফেললে তেমন ঝামেলা হতো না। এতদিন উচ্চ আদালতে আমরা কিছু একটা পেতাম। ওই নেতা বলেন, সেসময় বেগম জিয়া ছিলেন বিরোধীদলের নেতা। তাঁকে গ্রেপ্তার করা তখন এত সহজ কাজ হতো না।’

মামলাটি টানতে টানতে এমন সময় নিয়ে আসা হয়েছে,যখন নির্বাচন আর এই মামলা পাল্লার দুপাশে। এখন বিএনপির সামনে কূল-কিনারা কিছুই নেই।

এরপর আসে দণ্ড পরবর্তী আইনি কার্যক্রম। বিশেষ আদালতের রায়ের পরপরই আইনজীবীরা হাইকোর্টে যেতে পারতেন। অন্তর্বর্তীকালিন জামিনের আবেদন করতে পারতেন। সাধারণত এরকম জামিন চাওয়া হয় অসুস্থ, বৃদ্ধ এবং নারী দণ্ডিতের ক্ষেত্রে। বিএনপির আইনজীবীরা এরকম অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের কোনো উদ্যোগ নেননি।

রায়ের সত্যায়িত কপি নেওয়ার জন্য আবেদন করেন সাতজন আইনজীবী। এরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা ভাবে দরখাস্ত করেন। সাতজন আইনজীবীই নিজেদের খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দাবি করেন। পরে বিচারক বেগম জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াকে ডেকে জানতে চান- কে আসল আইনজীবী। সানাউল্লাহ মিয়া কারাগারে গিয়ে ওকালতনামায় বেগম জিয়ার স্বাক্ষর নিয়ে আদালতে জমা দেওয়ার পর সত্যায়িত কপি দেওয়া হয়। রায়ের সত্যায়িত কপি পাওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁরা হাইকোর্টে আপিল করেন।

হাইকোর্টে আপিলের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, বেঞ্চে বক্তৃতার প্রতিযোগিতা হট্টগোল। কিন্তু আসল খবরটি কেউই নেননি। মামলার মূল নথি অধস্তন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে আসলো কিনা, সেটির খোঁজও নিতে হয় সংক্ষুব্ধর আইনজীবীদের। তাঁরা সেটিও করেননি।

বেগম জিয়ার আইনজীবীদের যে তালিকা তা বেশ দীর্ঘ, এই তালিকায় সুপ্রিম কোর্টের যেমন জাঁদরেল আইনজীবী আছেন, তেমনি আছেন নিম্ন আদালতের করিৎকর্মা ব্যস্ত আইনজীবীরা। তাঁরা এভাবে ভুলের পর ভুল করবেন, সেটা বিশ্বাসযোগ্য