জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে জামিনের সময় বাড়ানোর আবেদনের শুনানি শেষে তিনি এ আদেশ দেন।

এছাড়া, খালেদা জিয়া সশরীরে আদালতে হাজির করার আবেদনের শুনানিও ওইদিন হবে বলে জানান আদালত।

এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাজির করতে বৃহস্পতিবার এক আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এ ব্যাপারে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করে আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে নেয়া হয়। তিনি এখনো কারাগারে আছেন। আজ হাইকোর্টে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে ট্রাস্টের নামে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। এরপর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।