জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে যে দু’টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, তাদের জামিন আবেদনে যে দুটি যুক্তি ছিল এর একটি হচ্ছে স্বল্প মেয়াদে সাজা, অপরটি তিনি অসুস্থ। এর বিরোধিতা করে আমি আদালতে বলেছি অসুস্থতার স্বপক্ষে আদালতে কোনো মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করা হয়নি। স্বল্প মেয়াদের সাজায় জামিন দেয়ার কোনো নজির আপিল বিভাগের রায়ে নেই।

এর আগে শুনানিতে আদালত জানান- নিম্ন আদালতের নথি আসার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। এরপর দুই বিচারক নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। পরে আদালত বলেন, ‘নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেয়া হবে।’বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দুপুর আড়াইটা থেকে শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন চাওয়া হয় আবেদনে।

শুনানিতে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি আদালতকে বলেন, ‘ইতিহাসে এ প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের স্বাক্ষরে কীভাবে টাকা চলে যায়? ওই সময় তার ছেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসায়ই থাকতেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এত বড় দায় এড়াতে পারেন না।’

খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে জামিন আবেদনের আর্জি করেন।