জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয় রোববার।

এদিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এজলাস কক্ষে প্রবেশ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম।বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনকে লক্ষ্য করে বলেন, প্রেসিডেন্ট এমনটি হলে আমরা কীভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করবো।

উত্তরে জয়নুল আবেদীন জবাবে বলেন, মাননীয় আদালত, এটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এ মামলার প্রতি দেশবাসীর আগ্রহ আছে, আইনজীবীদেরও আগ্রহ আছে।এ সময় অপর বিচারপতি সহিদুল করিম বলেন, আপনাদের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ সময় দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা উনাদের (জয়নুল আবেদীন) বলেছিলাম, তাদের পক্ষে ৩০ জন এবং আমাদের পক্ষে ৩০ আইনজীবী উপস্থিত থাকুক। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি…।আদালত এ সময় বলেন, আপনারা ঠিক করেন, আমরা ১০ মিনিট পর আবার বসবো। এই বলে বিচারকদ্বয় এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।দুপুর আড়াইটায় বিচারকদ্বয় ফের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে শুনানি শুরু করেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নিম্ন আদালত।এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন মামলার বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান।মামলার অন্যান্য ৫ আসামীকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজা প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ২কোটি ১০লক্ষ ৭১ হাজার টাকা সমপরিমান জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।