‘দেশ মাতা খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’- লেখা প্লে-কার্ড বুকে ঝুলিয়ে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন সড়কে পুরান কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে মানববন্ধন করছে শিশু - কিশোররা।

শুক্রবার বেলা ১২টায় এ মানববন্ধন করতে দেখা গেছে। এ সময় শিশুদের মায়েরাও উপস্থিত ছিলেন। নির্জন এই কারাগারের ভেতরের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। বিতর্কিত একটি মামলায় দুবারের সাবেক সফল এই প্রধানমন্ত্রীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ কারাগারে রাখা হয়েছে। শীর্ষনিউজ

লেনদেন মন্দায় ৮২ শতাংশ কোম্পানির দরপতন বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহেও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনে বড় পতন হয়েছে।সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই’র সার্বিক লেনদেন কমেছে ৪১.৯০ শতাংশ। এ সময় বিগত দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেনের রেকর্ড গড়েছে পুঁজিবাজার।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর ৮১.৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে।বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় দেশের পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনে মন্দা দেখা দিয়েছে, যার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহের লেনদেন, সূচক ও বাজার মূলধনে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৮ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১ হাজার ৮০ কোটি ৬২ লাখ ৮৬ হাজার ৯০ টাকা বা ৪১.৯০ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশগ্রহণ করেছে ৩৩৯টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ২৭৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠানের দর। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর ২৪১টির দর বেড়েছিল, দর কমেছে ৭২টি প্রতিষ্ঠানের। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে উল্টা রথে চলেছে ডিএসই।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩.২২ পয়েন্ট বা ২.৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯০৬.৯৮ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান সূচক ৮৪.৫৭ পয়েন্ট বেড়েছিল।

এছাড়া সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে শরীয়াহ সূচক ২৯.৯২ পয়েন্ট বা ২.১৩ শতাংশ কমে ১৩৭৫.৫২ পয়েন্টে ও ডিএসই-৩০ সূচক ৬০.৬৭ পয়েন্ট বা ২.৭২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২১৭০.২৫ পয়েন্টে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ৪ লাখ ৯ হাজার ৫৭১ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫১ টাকায় স্থিতি পায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ১.৯৭ শতাংশ বা ৮ হাজার ২১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সপ্তাহ শেষে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ইউনিক হোটেল। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির ৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসই’র গত সপ্তাহের সর্বমোট লেনদেনের ৪.২০ শতাংশ। টার্নওভারের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল স্কয়ার ফার্মা, কোম্পনিটির ৪২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৪১ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদের মধ্যে দিয়ে টার্নওভারের তৃতীয় অবস্থানে ছিল সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল।

এছাড়া টার্নওভার তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো- গ্রামীণফোন, ফু-ওয়াং ফুড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, মুন্নু সিরামিক, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও বেক্সিমকো ফার্মা।