বিটিভিতে ‘লাইভ’ শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পনের অনুষ্ঠান দেখছিলেন বেগম জিয়া। বিভিন্ন সংগঠনের শহীদ মিনারের ফুল দেওয়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে বেগম জিয়া খুঁজছিলেন বিএনপিকে। কারারক্ষী কুলসুমও মেঝেতে বসে বেগম জিয়ার সঙ্গে টিভি দেখছেন। টিভি দেখছিলেন ফাতেমাও। কারারক্ষী কুলসুম জানতে চাইলেন, ‘ম্যাডাম বিএনপি ফুল দিবো না?’ বেগম জিয়ার ছোট্ট উত্তর ‘দেবে’।

অপেক্ষার পালা শেষ হলো সকাল সাড়ে ১১টায়। বেগম জিয়া দেখলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশারফ সহ কয়েকজন নেতা শহীদ বেদীতে পুস্পাঘ্য অর্পন করছে। মাইকে ঘোষণা করা হলো, মহাসচিবের নেতৃত্বে বিএনপি এখন শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য অর্পন করছে। শান্তশিষ্ট বেগম জিয়া হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। নিজেই বিড় বিড় করে বললেন, ‘ফখরুলের নেতৃত্বে কেন? ফখরুল কে? এটা কারসাজি, ফখরুলকে সরকার হিরো বানাচ্ছে।’ এরপর ফাতেমাকে বললেন এক গ্লাস পানি দিতে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩১টি যুক্তি দেখিয়ে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি হবে আজ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীদের মাধ্যমে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আপিলে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন ওই কারাগারে আছেন।

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া এ মামলায় অপর যে চার আসামিকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তারা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।