দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর আবেদনের প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি আগামী রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একডি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

আদালতে খুরশীদ আলম খান বলেন, মাই লর্ড আমাদেরকে জামিন আবেদনের কপিটি ভালো করে স্টাডি করতে হবে। সকাল ৯টার পরে আমরা আবেদনের কপি হাতে পেয়েছি। আর শুনানি শুরু হয়েছে দুপুর ১২টায়। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সম্পূর্ণ আবেদন স্টাডি করতে পারি নাই।

তিনি আরও বলেন, দুদক আইনে বলা আছে মামলার জামিন আবেদনের শুনানির প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য সময় দিতে হবে দুদক কৌশলীকে। তখন আদালত আমাদের আবেদন শুনে আগামী রোববার পর্যন্ত জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি করেছেন। খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার জরিমানার অংশটুকু।

আজ সকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আদালতে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন- খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আবদুর রেজাক খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

এর আগে আজ সকালে ৩১টি যুক্তি দেখিয়ে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। এছাড়া, গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার হয়। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন ওই কারাগারে আছেন।

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া এ মামলায় অপর যে চার আসামিকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তারা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।