জিয়া অরফারেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের আপিল মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার সকালে জানান, খালেদা জিয়ার রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা পড়া হয়েছে। রায়ের যদি আপিল করা হয় তাহলে তা মোকাবেলার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, কোন কোর্টে রায়ের আপিল করা হবে তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। আপিল করার জন্য আমরা ফাইল তৈরি করে ফেলেছি। দুপুরের দিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের পরামর্শে আদালতে আপিল করা হবে।

এদিকে সোমবার বিকেল ১ হাজার ১৬২ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি (মূল রায় ছিল ৬৩২ পৃষ্ঠার) খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। রায়ের অনুলিপির সঙ্গে আদেশ যোগ হয়েছে আরও ৬ পৃষ্ঠা।

এর আগে রোববার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পেতে বিচারক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবীরা। পরে রায়ের কপি সোমবার দেয়া হবে বলে বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এক আদেশে এ কথা জানান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রাজধানীর বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।