দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা নিয়ে নাটকীয়তা তৈরি হচ্ছে। এতদিন বলা হচ্ছিলো রায়ের কপি না পাওয়ায় আপিল করা হচ্ছে না।
কিন্তু সোমবার বিকেলে রায়ের কপি পাওয়ার পর জানা গেলো আইনজীবীরা আপিল নিয়ে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছেতে পারেনি এখনো।
খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে তারা ক্যামেরায় মুখ দেখানোর রাজনীতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। কে আপিল করবেন তাও এখনো ঠিক হয়নি। এজন্য মঙ্গলবার আপিল করা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদি কোনো কারণে মঙ্গলবার আপিল ফাইল না হয় তবে এ সপ্তাহে খালেদার জামিন হওয়ার আশা নেই।
নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল করা নিয়ে তার আইনজীবীদের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা বিরাজ করছে। সিনিয়ররা কেউ কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে পৃথক পৃথক চেম্বারে আবেদনের খসড়া তৈরি করছেন। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতেই আবেদন করেছেন তাঁর সাত আইনজীবী। খালেদা জিয়ার একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের উচিত ছিল, একসঙ্গে বসে আপিলের সম্ভাব্য ভিত্তি ঠিক করা। তারা এ ধরনের কোনো আলোচনা করেননি। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং সমিতির বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পৃথকভাবে আপিল আবেদন প্রস্তুত করছেন। এই তিনজনই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পরপরই আপিল আবেদন করা হবে বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হলেও ফাইলিং আইনজীবী কে হবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। আর হাই কোর্টের কোন বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যাওয়া হবে তাও চূড়ান্ত করতে পারেননি তারা। রায় ঘোষণার পর সাত জন আইনজীবী সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন। সবার আগে কপি নেওয়ার জন্য তদবিরও করছেন তারা। আর কারাগারে ওকালতনামা দিয়ে আসার এক সপ্তাহ পরও তা ফেরত না পাওয়ায় নিজেদের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন দলটির অনেক আইনজীবী।
এদিকে সার্টিফায়েড কপি উঠানোর বিষয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া সিনিয়রদের কথা শোনেননি বলেই এত বিলম্ব হচ্ছে। এ অভিযোগ অন্য আইনজীবীদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি সমর্থক এক আইনজীবী জানান, ‘ম্যাডামের অন্য মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ফাইল তৈরি করে তা মৌখিকভাবে অন্য সিনিয়রদের জানান। পিটিশনটি এফিডেভিট (হলফনামা) হয়ে গেলে এর ১০-১২টি কপি সিনিয়রদের চেম্বারে তিনি পাঠিয়ে দেন। এ মামলায় অন্য চেম্বারগুলো থেকে এমনটা দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত তারা কোনো বৈঠকই করতে পারেননি। আইনজীবীদের রাজনীতির কারণেই রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এই আইনজীবী বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ ও খোকন সানাউল্লাহ মিয়াকে বলেছিলেন, সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় ঢাকা বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে যেতে, যাতে একটা চাপ সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু তিনি কাউকে না নিয়ে একাই যান। পরে সে কাজটিই তিনি করলেন, এক সপ্তাহ পর।
সমন্বয়হীনতার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের সিনিয়ররা মিটিং করছেন। আপিলে তারা কাজ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘যার যেটা কাজ তিনিই সেটা করছেন। আমার কাজ রায়ের কপি তোলা, আমি সেই কাজেই ব্যস্ত রয়েছি।’ সার্টিফায়েড কপির জন্য সাতটি আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা এই মামলায় আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন, তারা সবাই তো কপি চাইতে পারেন।





