আমি পড়াশুনা করাকালীন একজনের প্রেমে পড়ে যাই। সে একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে ভালো পোষ্টে চাকুরী করত। সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমাদের ভালোবাসাটা কেউ মেনে নিবেনা জেনে আমরা নিজেরা পরিবারের কাওকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করে নিই।
বিয়েটা হয়েছিল গ্রামের বাড়িতে আর সেখানেই আমাদের বাসররাত হয়ে গেল। আমদের বিয়ের আগে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। পরেরদিন আমরা গেলাম তার চাকুরীর জায়গায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম তার অফিস থেকে আমাদের হানিমুনের ব্যবস্থা করেছে। আমরা যথারীতি হানিমুনে চলে গেলাম। আমি এতোটাই খুশি ছিলাম ভাইয়া যে আপনাকে বলে বোঝাতে পারব না। আর সেই খুশিতেই হয়ত কারো নজর লেগেছিল। আমরা হানিমুনে যাওয়ার পর একটা সুন্দর হোটেলে উঠলাম, যেটা আগে থেকেই বুক করা ছিল।
রাতে ফ্রেশ হয়ে আমরা আমাদের রুমেই ছিলাম। একটু পর একজন ভদ্রলোক আসল। কথা বলে জানলাম সেটা আমার স্বামীর অফিসের বস হয়। তারা দুইজন মিলে রাতে অনেক ড্রিংকস করে। এতোদিন প্রেম করেও আমার অজানা ছিল যে, আমার স্বামী মদ খায়। আমি সেদিন তার সেই আচরন দেখে অনেকটা ভয় পেয়ে যাই। আমি কোন কথা না বলে তাদের জন্য আনুষাঙ্গিক খাবারের ব্যবস্থা করি।
রাত যখন গভির তখন আমার স্বামী আমাকে রুমের মধ্যে নিয়ে যায় এবং বলে আজকে রাতে আমার এই রুমে তার বস থাকবে এবং তার বস যা করবে যা যা বলবে আমাকে তাই করতে হবে। আমি রেগে গিয়ে বললাম এখনই আমি বাড়িতে চলে যাব, সবাইকে বলে দিব তোমার এই আচরনের কথা। তখন ভেঁসে ওঠে তার আসল চেহারা। যেটা এর আগে আমি কখনো দেখিনি।
সে আমাকে বে-ধড়ক মারধর শুরু করে দিল। আমি তারপরেও রাজি না হলে সে আমাকে কিছু ভিডিও দেখায় যা দেখে আমার প্রায় রক্তশুন্য হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল। আমরা বিয়ের আগে যতবার শারীরিক সম্পর্ক করেছি তার সবগুলো ভিডিও তার কাছে ছিল। সে কিভাবে ভিডিও করেছিল আমি কিচ্ছু জানতাম না। সে আমাকে হুমকি দেয় তার কথা না শুনলে সব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে। তারপরেও আমি রাজি না হলে সে আমাকে আরো মারধর করে। আমি নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য রাজী হয়ে যাই। সেই রাতে তার ঐ বস আমার সাথে রাত কাটালো।
পরের দিন তার ঐ বস আবার আসল। আমাকে বাধ্য হয়ে আবার তার বসের সাথে রাত কাটাতে হল। যে কয়দিন আমরা হানিমুনে ছিলাম সেই কয়টা দিন আমাকে তার বসের সাথেই রাত কাটাতে হল। আমরা হানিমুন শেষ করে ফিরে আসার সময় আমার স্বামী আমাকে হুমকী দিল আমি যদি এই বিষয়ে কাওকে কোন কিছু জানায় তাহলে আমার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলবে। আমাকে সারা দুনিয়ার কাছে উলঙ্গ করে ফেলবে। আমি আমার পরিবারের জ়ীবন বাঁচাতে ভয়ে কাওকে কিছু বলতে পারিনি।
আমাকে তার সাথেও একইভাবে রাতযাপন করতে হল। তারপর থেকে প্রতিদিন তার কেউ না কেউ আসতই। যাদের সবার সাথে আমাকে রাত কাটাতে হত। তাদের মনরঞ্জন করতে হত। বলা যায় আমাকে দিয়ে আমার স্বামী দেহব্যবসা শুরু করে দিয়েছিল।
আমি মরে যেতে পারছিলাম না কারন সেটাতেও সে আমাকে হুমকী দিয়েছিল আমি মরে গেলে সে সবাইকে বলবে আমি একটা খারাপ মেয়ে ছিলাম। তাই নিজে নিজে আত্মহত্যা করেছি কারন প্রমান হিসেবে তার কাছে সব গোপন ভিডিও আছে। আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। কোন পাপে আমার এমন শাস্তি হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ে করে বাসর রাতের পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমার স্বামী আমাকে ছুঁয়ে দেখেনি।
আমি বাড়িতে আসারপর বাড়ির সবাইকে বলি সে আমাকে প্রতিদিন ভিষন মারধর করে। কিন্তু আমাকে দিয়ে যে দেহব্যবসা করায় সেটা আমি লজ্জায় কাওকে বলতে পারিনা। আমার পরিবার সব কিছু শোনার পর সিদ্ধান্ত নেয় আমাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার এবং থানায় একটা নারী নির্যাতন মামলা দেওয়ার জন্য। আমি পরিবারের সবার কথামত তাই করি। তারপর সে আমাকে ফোন করে জানায়, আমি যদি মামলা না তুলি তাহলে আমার সব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে।
আমাকে মামলা তুলে আবার তার কাছে ফিরে যেতে বলে। আমি জানি আমি যদি এই ভুল আবার করি তাহলে আবার সে আমাকে ব্যবহার করে তার কাজ হাসিল করে নিবে। আমার কি মরে যাওয়া উচিৎ ভাইয়া? না কি করা উচিৎ আমি নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। আমাকে প্লিজ আপনার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে বেঁচে থাকার একটা রাস্তা করে দিবেন।





