৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার একদিন আগে থেকে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন ফাতেমা বেগম নামের ৩৫ বছর বয়সী একজন মহিলা।
বলছিলাম খালেদা জিয়ার পৃহপরিচারিকা কথা। পরিবার ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের সার্বক্ষনিক সঙ্গীও বলা যায় তাকে। ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার খালেদার রায় ঘোষণার আগের দিন ‘‘সাজা হলে ফাতেমাকেও প্রস্তুত থাকতে বললেন খালেদা” । এরপর থেকে আলোচনায় চলে আসেন ফাতেমা। তার পরের ঘটনা সকলেরই জানা। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে রয়েছেন আলোচিত এই নারী।
জানা গেছে, ৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় আসেন ফাতেমা। ঢাকা এসেই গৃহকর্মী হিসেবে ফাতেমা বেগম জিয়ার সঙ্গে আছেন। ঢাকা আসার আগেই ফাতেমার স্বামী হারুন লাহড়ী মারা যান। ফাতেমার দুই সন্তান। বড় মেয়ে রিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছেলে রিফাত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তারা দুজনই নানা-নানীর সাথে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় থাকেন। ফাতেমার বাবা রাফিজাল হক ও মা মালেকা বেগম ভোলা সদরের কাটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
২০১৫ সালে জানুয়ারি থেকে ৯২ দিন গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানের সময় খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা। ফাতেমার ছেলে ওই সময় মাঝেমধ্যে গুলশান কার্যালয়ে এসে মা ফাতেমার সঙ্গে দেখা করে যেতেন।
তার পরিবারের ব্যাপারে বিএনপির সাবেক দুজন সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা সব খবর রাখেন। মূলত তারাই ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠান।
ফাতেমা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কাজগুলো করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন তার দৈনন্দিন কাজের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ফাতেমার ওপর নির্ভরশীল। দেশের ভেতর তো বটেই, দেশের বাইরেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসনের প্রতি ফাতেমার মমত্ববোধ প্রবল। সব সময় পাশে থাকা, চেয়ারপারসনকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে করিয়ে দেওয়াসহ সব কাজই ফাতেমা করে থাকেন।
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর যখন গুলশানের কার্যালয়ে থেকে খালেদা জিয়াকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না ওই সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের পেছনে পতাকা হাতে দাঁড়ানো ফাতেমাকে নিয়ে অনেকেই কৌতূহল দেখান।





