প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপি ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচিতে অধিক সংখ্যাক নেতাকর্মী উপস্থিত হচ্ছেন। তারা যে কোনো উপায়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার। কারণ হিসেবে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিকনির্দেশনায় দলের সর্বস্তরে একটা চাঙ্গ চাঙ্গা ভাব তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার লন্ডনপ্রবাসী ছেলে তারেক রহমান হাল ধরার শুরু থেকেই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

এক্ষেত্রে তিনি তার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক কর্মিবাহিনীর মাধ্যমে রায়-উত্তর আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার ব্যাপারে দলের নেতাদের কার কী ভূমিকা, তারও খোঁজ রাখছেন-এমনটাই জানিয়েছেন দলের নেতারা।

সূত্রে জানায়, মায়ের সঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অর্থদণ্ডসহ ১০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশ থেকে নেতাকর্মীদের সরকারের ফাঁদে পা না দিয়ে খালেদা-মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্যও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন তারেক রহমান।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতারা জানান, উদ্ভূত রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নয়া নেতার দিকনির্দেশনা দলের সর্বস্তরে একটা চাঙ্গা চাঙ্গা ভাব তৈরি হয়েছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে রায়-উত্তর আন্দোলনের নানা কর্মসূচিতে দলের অধিক সংখ্যায় অংশগ্রহণ।

এ বিষয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি দল পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কে আন্দোলনের কর্মসূচিতে থাকছেন, কে থাকছেন না, তার খোঁজ-খবর রাখছেন। এতে দলের নেতাকর্মীরা একদিকে যেমন চাঙ্গা হচ্ছেন, অন্যদিকে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। তার বিশ্বাস, আগামীদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে দলীয় শক্তিমত্তার উপস্থিতি দৃশ্যমান হবে।

নেতাদের মধ্যে কার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ হচ্ছে তারেক রহমানের-এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দুজনের নাম উল্লেখ করেন। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।