ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা নিউ এজের আজকের সংবাদ যে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় এখনও পুরো লেখা হয় নাই; লিখিত রায় টাইপ করা হয় নাই; টাইপ করা রায় সংশোধন হয় নাই।
রায় যদি লেখায় শেষ না হয় তবে সেই রায় ঘোষণা হইলো কেন? রায় ঘোষণায় এত তরি-হরি কেন? আরও ১৫ দিন পরে রায় ঘোষণা হইলে কি সমস্যা ছিলও? এই রকম একটি স্পর্শকাতর মামলার রায়ে এত অসংগতি কেন?
মামলার রায় হয়েছে কিন্তু বিবাদী পক্ষেকে মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি দেওয়ার কোন খবর নাই (“Former district judge and Supreme Court registrar Ikteder Ahmed told New Age that the full verdict must be read out in open court and it has to be signed in open court, according to Section 369 of the Code of Criminal Procedure.” )। মামলার সার্টিফায়েড কপি না পাইলে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা আপিল ও করতে পারবে না; হাইকোর্টেও মামলা উঠবে না। ততদিন খালেদা জিয়া জেলের ভাত খাক; জেলে বসে বিটিভিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার দেখুক; স-শ্রম করাদন্ডের ফলে সকাল-সন্ধ্যা জেল খানার ফুল বাগনে পানি দিতে থাকুক।
“On February 8, Dhaka special court 5’s judge Md Akhteruzzaman read out the operative part of a 632-page verdict.
Anti-Corruption Commission prosecutor Mosharraf Hossain Kazal said that it would take time to write and type the 632-page verdict before issuing the certified copy.”
নিউ এজ পত্রিকার সংবাদ পরে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের বেলজিয়াম প্রবাসী আইনের অধ্যাপকের সাথে স্কাইপি সংলাপের উক্তি মনে পড়ে গেল
“‘গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হইয়া তারা একটা রায় চায়’”
৮ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-শ্রীলংকার মধ্যকার ২য় টেস্ট ম্যাচ শুরু; ৩ দিনের নিচে তো সেই টেস্ট শেষ হইবে না হলফ করিয়া বলা যায়; সেই সাথে একই দিনে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক একই দিনে বরিশালে নতুন সেনানিবাসের উদ্ভোদন। ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশি মানুষকে টেলিভিশনের স্ক্রিনে আচ্ছন্ন রাখিয়া বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে ঢুকানোর মতো এই রকম মোক্ষম সময় ও সুযোগ কোন ভাবেই হাতছাড়া করিতে দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশে টাকার উপর যেমন লেখা থাকে “চাহিবার মাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে” তা এখন নিম্ন আদালতের বিচাকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইতেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে সরকারের প্রধান বিরোধ ছিলও ঐ নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই। বিচারপতি সিনহাকে যখন কোন ভাবেই রাজি করানো সম্ভব হলও না নিম্ন আদালতের বিচাকদের প্রমোশন-ট্রান্সফার এর ক্ষমতা সরকার বা নির্বাহী বিভাগের হাতে রাখার ঠিক তখনই তাকে ক্যান্সারের রোগী বানানো হলও; দেশ ছাড়া করতে বাধ্য করা হলও; বিমানবন্দরে তার স্ত্রীকে আটকে দেওয়া হলও; অবশেষে অষ্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে ডেকে নিয়ে এসে পদত্যাগে বধ্য করা হলও।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক প্রকাশ্য আদালতে তত্বাবধায়ক সরকার পরবর্তী দুই টার্ম রাখা যেতে পারে বলে রায় ঘোষণা করে ১০ মাসে পরে সেই রায় প্রায় পুরো পাল্টিয়ে লিখিত রায় প্রকাশ করেছিলেন (দুই জন সাবেক প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যে বলেছেন খায়রুল হক যেভাবে প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত রায় পাল্টিয়েছেন তা ফৌজদারি অপরাধে বিচার যোগ্য)। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যেমন বেলজিয়াম থেকে যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় লিখে আনিয়াছিলেন; সেই একই রকম ঘটনা কি ঘটিতে যাইতেছে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে?
বেগম খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সংবাদ মাধ্যম বাংলা ট্রিবুনে প্রকাশিত সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা (সম্পাদক, সাপ্তাহিক) এর লেখা একটা আর্টিকেল কোট করলাম:
“প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া চুরি বা আত্মসাৎ করেননি। তারেক রহমান বা অন্য কেউও এই টাকা চুরি বা আত্মসাৎ করেননি। বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে টাকা স্থানান্তর হয়ে, কয়েক হাত ঘুরে, আদালতের নির্দেশে আবার এতিমখানার তহবিলে ফিরে এসেছে। মূল টাকা বেড়ে ৬ কোটি হয়েছে। ‘এতিমের টাকা খালেদা জিয়া বা অন্য কেউ মেরে খেয়েছেন’–তথ্য তা প্রমাণ করে না। টাকা উধাও হয়ে যায়নি, ব্যাংকে জমা আছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ টাকা চুরি বা আত্মসাৎ বা ‘মেরে খাওয়া’র নয়। অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ সংরক্ষণে বিশ্বস্ততার পরিচয় দেননি, অবিশ্বস্ত আচরণ করেছেন। আমানতের খেয়ানত করেছেন, চুরি বা আত্মসাৎ করেননি।”





