জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের কপি না মেলায় কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন করা সম্ভব হয়নি।রোববারও কপি না মেলায় মামলায় পাঁচ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আপিল আবেদনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে। রায় ঘোষণার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল রোববার জামিনের আদেবন করা হতে পারে।

তিনি সন্দেহ জানিয়ে বলেছিলেন-রায়ের সার্টিফাইট কপি পেতে একদিনও লাগে, আবার এক মাসও লাগে। এদেশে তো সব কিছু নির্ভর করে সরকারের মর্জির ওপর। ‘মামলাটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন হলেও যা ঘটে গেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক বড়। এখন দেখার বিষয়, সরকার কিভাবে এটিকে ডিল করে?

তিনি অশঙ্কা জানিয়ে বলেছিলেন- সপ্তাহের শুরুতে রায়ের সার্টিফাইট কপি না পেলে আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তির সম্ভাবনা কম।

তবে তিনি এও জানান, রোববারই সার্টিফাইড কপি পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আপিল আবেদন পুটআপ হবে। উচ্চ আদালত শুনানি গ্রহণ করে জামিন মঞ্জুর করলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে আশা করা যায়।

এবিষয়ে রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, রায়ের কপি পাওয়া যায়নি। তবে আশা করি, সোমবার পাওয়া যাবে। আদালত প্রশাসন থেকেও তেমন আশ্বাস পেয়েছি।

তিনি বলেন, সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নথিপত্র ঠিক করে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করা হবে।

এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। কপি পাওয়ার উপর উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন মামলার বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান।

মামলার অন্যান্য ৫ আসামীকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সাজা প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ২কোটি ১০লক্ষ ৭১ হাজার টাকা সমপরিমান জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।