জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকে বিএনপির চিয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে তিনিই একমাত্র বন্দি।

কারাগারে তিনি একজন সাধারণ কয়েদী হিসেবে আছেন। তাকে দেয়া হয়নি ডিভিশন। এছাড়া জেল কোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় তাকে সাধারণ কয়েদীদের মতোই কারা পোশাকে থাকতে হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতারা সরব হওয়ার পর বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।এনিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা।সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ডিভিশন দেয়া না দেয়া আদালতে বিষয়। তবে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ডিভিশন প্রাপ্তদের মতেই সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

কাদের বলেন, আক্ষরিক অর্থে যেটা ডিভিশন বলে সেটা দেয়ার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে হয়তবা। কিন্তু এখন যে মর্যাদায় উনি আছেন তার জন্য যেভাবে খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তার খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে, আমার মনে হয় এসব বিষয়ে ডিভিশনপ্রাপ্ত প্রিজনাররা যেভাবে সুযোগ পান তা তিনি পাচ্ছেন।

কারাগারে মুক্ত জীবনের সুবিধা যে পাওয়া যায় না, সেটাও জানিয়েছেন সড়ক মন্ত্রী বলেন, আপনাকে বুঝতে হবে, জেলখানা আরামের জায়গা নয়। সব সুবিধা তো এখানে পাওয়া যাবে না। তবে একটা মানুষ থাকতে হলে যা কিছু প্রয়োজন তা তাকে (খালেদা জিয়া) দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিত্যক্ত কারগার হলেও যে রুমটিতে খালেদাকে রাখা হয়েছে সেটা মেরামত করা হয়েছে। আগে সেটা জেল সুপারের রুম ছিলো। সেখানে তাকে অ্যাটাচ বাথরুমসহ কক্ষ দেয়া হয়েছে, আছে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, পত্রিকা, টেলিভিশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে তার জন্য। কারাগারে ডিস সংযোগ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বসানের খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

যে রুমে খালেদাকে রাখা হয়েছে বিগত সত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সে রুমটা কাদের দেখেছেন বলে জানান। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং তিনি (ওবায়দুল কাদের) একসাথে কিছুক্ষণ ওই রুমটাতে বসার সুযোগ হয়েছিলো।

সেখানে তাদের মধ্যে কোনো কথা না হলেও কক্ষটি সম্পর্কে তাদের (বিএনপির) খুব ভালো ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন কাদের।তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন কারাগারে যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময়ও কারাগারে এরকম সুবিধা পানননি।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন মামলার বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান।মামলার অন্যান্য ৫ আসামীকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজা প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ২কোটি ১০লক্ষ ৭১ হাজার টাকা সমপরিমান জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।