দেরিতে হলেও লন্ডনের বিকল্প হাওয়া ভবনের সেই ইচ্ছা পূরণ হল। ২০১৫ সাল থেকেই তারেক রহমানকে দলের কো-চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিকল্প হাওয়া ভবনের সদস্যরা।
তখন ওই সিন্ডিকেটের যুক্তি ছিল লন্ডনের সব নির্দেশনা ঢাকায় বাস্তবায়ন হয় না। আটকে যায় ঢাকার গুলশান অফিসে। চেয়ারপারসনের দোহাই দিয়ে। কো-চেয়ারম্যান হলে আর সেটা সম্ভব হবে না। ২০১৫ সালে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে এসেছিলেন। তখন তারা কো-চেয়ারম্যান পদ সৃস্টির মিশনে নেমেছিলেন। প্রস্তাবও করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে।
কিন্তু রাজনীতিতে বিচক্ষণ খালেদা জিয়া সায় দেননি এ প্রস্তাবে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন দলের গঠনতন্ত্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ আপাতত নেই। এতে চুপসে গিয়েছিল বিকল্প হাওয়া ভবনের সদস্যদের কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির উদ্যোগ। এ উদ্যোগে তারেক রহমানের শতভাগ সমর্থনও ছিল বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল হয়েছে। রায়ের পরপরই তাকে নেওয়া হয়েছে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই সুযোগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে তারেক রহমান হয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন।
যদিও অতীতে বেগম খালেদা জিয়া অনেকবার আটক হয়েছেন। বিশেষ করে এরশাদের আমলে ৩ বার তাকে অন্তরীন করা হয়েছিল। ওয়ান ইলেভেনের জরুরি আইনের সরকারও তাকে আটক রেখেছিল এক বছরের বেশি সময়। তখনো দলে কোন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এবার কারাগারে নেওয়ার সাথে সাথেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারনের দায়িত্ব অর্পিক হয়েছে। দল সৃষ্টির পর থেকে এটাই প্রথম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব পেলেন কেউ। বিএনপির গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে পূরণ করা হলো বিকল্প হাওয়া ভবনের খায়েশ।
লন্ডনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিকল্প হাওয়া ভবনের সদস্যরা এমনিতেই দলের ভেতরে বেপরোয়া। তারা দলের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে। অনেকেরই কেন্দ্রীয় পদ পদবী নেই। শুধু তারেক রহমানের ছায়া রয়েছে। তাতেই তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করেন। বাংলাদেশ থেকে যত সিনিয়র নেতারাই আসুন লন্ডনে, বিকল্প হাওয়া ভবনের সদস্যদের তোয়াজ করেই চলতে হয়। এখন তাদের এই বেপরোয়া মনোভাব দলের ভেতরে আরো বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যেই তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসাবে খ্যাত আবু সায়েম নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসাবে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন। দলের গঠনতন্ত্রের কোথায়ও এরকম পদ নেই। তারপরও তারা নিজেদের পদ নিজেরাই সৃষ্টি করে নিচ্ছেন বিকল্প হাওয়া ভবনের সদস্য হওয়ার সুবাদে।
এদিকে রায়ের পর থেকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিনটি কেটেছে বাংলাদেশে ফোন করে। তিনি সারাদিনই বাংলাদেশে বিভিন্ন জনের সাথে ফোনে যোগাযোগ রেখেছেন।





