বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে সাজা আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
আজ শুক্রবার সকালে মাদারীপুর আচমত আলী খান স্টেডিয়াম মাঠে ‘মিনি আর্টিফিশিয়াল টার্ফ’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘খেলার মাঠে ফাউল করলে পা ভেঙে যায়, তেমনি খালেদা জিয়া রাজনীতির মাঠে ফাউল করে শাস্তি পেয়েছেন। দুর্নীতির দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানের রায় ঘোষণার প্রতিবাদে কোনো লোক মাঠে নামেনি। অথচ আমরা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে কারফিউয়ের মধ্যেও আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম। এতেই প্রমাণিত হয় বাংলার মানুষ খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেই।’
শাহজাহান খান আরও বলেন, ‘বিএনপি তাদের নেত্রীকে বাঁচাতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারে, কিন্তু বিগত দিনে দেখেছি হাইকোর্ট অনেক সময় দুর্নীতির জন্য সাজা বাড়িয়েছে। তার রায়ে সাজা বাড়াতেও পারে।’
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের দুর্নীতি মামলার রায়ের পর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ জানিয়েছিলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের কপি হাতে পেলে রবিবার জামিনের আবেদন করা হবে।
মওদুদ বলেন, ৪০৯ ধারায় এমন শাস্তি হতে পারে না। রায়ে অন্য অপরাধের বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও বেগম জিয়ার অপরাধের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এটি একটি ফৌজদারি মামলা হলেও তা রাজনৈতিক মামলা হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তাই মামলার রায় আইনসংগত হয়নি।
সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সে সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন। তবে জামিনের পর বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
এর আগে দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
দণ্ডবিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। তবে বয়স ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা কমানো হয় বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।





