বেগম জিয়া জেলে যাবার পর বিএনপির প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হয়েছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।তারা বলেছেন, ‘এত অসহায় আত্মসমর্পন অবিশ্বাস্য।’ বিএনপির জন্য তাঁরা করুণা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, ‘লজ্জিত’।বিএনপির অন্যতম থিংক ট্যাংক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহামুদুর রহমান।

তিনি রায় শুনেছেন এক আত্মীয়র বাসায়। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক আবদাল আহমেদ। বেগম জিয়াকে যখন জেলে নিয়ে যাচ্ছিল তখন বিএনপির কোনো প্রতিবাদ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন, বেগম জিয়ার সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা।

তিনি সহকর্মী সংবাদ কর্মীকে বলেন, ‘বিএনপি কি এতই অক্ষম এবং দেউলিয়া হয়ে গেলো।তিনি বলেন, ‘জামাতও তো তাঁদের নেতার রায়ের পর এর চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।’তিনি আবদালকে বলেন, ‘আমি নিজেই লজ্জা পাচ্ছি।’বিএনপির আরেক থিংক ট্যাংক শফিক রেহমান। শফিক রেহমান রায় শুনেছেন তার বেইলী রোডের বাসায়। তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর কয়েকজন সহকারী।রায়ের পর তিনি বলেন, ‘একটা প্রতিবাদ করার শক্তিও দলটির নেই। এই দলটা ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল?’তিনি এই ঘটনায় বিএনপি একটি মূল্যহীন রাজনৈতিক দলে পরিণত হলো বলে মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী রায়ের খবর শোনেন, তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসে। তাঁর সঙ্গে ছিল কয়েকজন চিকিৎসক। রায় হবার পর বেশ কিছুক্ষণ তিনি বিএনপির প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

রিজভীর কান্না দেখে বিরক্ত ডা. জাফরুউল্লাহ তাঁর সহকর্মী ডাক্তারকে বলেন, ‘ব্যাটা কাঁদে কেন? ব্যাটা কি রাজনীতি করতে এসেছে না যাত্রাপালা?’তিনি বলেন, ‘জানো বিএনপির জন্য করুণা হয়।’ বেগম জিয়া তো জানতেন তিনি অ্যারেস্ট হবেন, তাহলে তাঁর দিক নির্দেশনা কি? বিএনপি কীভাবে চলবে?’

হাসতে হাসতে জুনিয়ার ডাক্তারের পিঠ চাপড়িয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা দাবায় জিতেছেন।’

জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তার সবই তিনি পাবেন, জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার এই কারাবাসের সময় তার চিকিৎসার জন্য ২৪ ঘণ্টা একজন ডাক্তার পাচ্ছেন। এমনকি বেগম জিয়ার খাওয়ার আগে খাবার টেস্ট করছেন সেই ডাক্তার।

দেখভালের জন্য রয়েছেন একজন ডেপুটি জেলার। একটি ফ্রিজ দেয়া হয়েছে। রান্নাবান্নার জন্য আছে গ্যাসের চুলার ব্যবস্থা। এছাড়া দেশ-বিদেশের খবর জানতে খালেদা জিয়া ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ এবং অবজারভার পত্রিকা পাবেন। টেলিভিশন দেখার সুযোগ থাকলেও কোন স্যাটেলাইটের ব্যবস্থা নেই। তাই শুধু বিটিভি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

রুমে এসির ব্যবস্থা না থাকলেও যথেষ্ট আলো-বাতাসের ব্যবস্থা আছে বলেই জানা যায়। তার নিরাপত্তার জন্য ২৫ জন কারারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। এসব কারারক্ষীদের জেলের ভেতরেই থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে অর্থদণ্ড। তারেক সহ বাকি ৪ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে এই রায় দেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে নেওয়া হয়। এখানেই তিনি কারাবাস ভোগ করবেন।