জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা কমে যাবে বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে মামলার নথি থেকে এ তথ্য জানা যায়। এক মাস ৯ দিন কারাভোগ কম করতে হবে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়া এর আগে এক মাস ৯ দিন কারাভোগ করেছিলেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মামলার ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৫ ‘এ’ ধারা অনুযায়ী সাজা থেকে এসব দিন বাদ যাবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১/১১-এর সময় খালেদা জিয়া কারাগারে আটক থাকার পর রমনা থানায় ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় তাকে আটক দেখানো হলে ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এক মাস ৯ দিন খালেদা জিয়া কারাভোগ করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের এবং তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সিলেট, লক্ষীপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে পনেরজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া খালেদার রায়কে কেন্দ্র করে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।