জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হবে কী হবে না তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।সরকার পক্ষের দু-একজন নেতা বলছে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত।

তবে আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাই রায়ের বিষয়টিতে রাজনীতি খুঁজতে নারাজ। তাদের মতে রায়ে কী হবে না হবে সেটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

অন্যদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, এ মামলা রায়ে খালেদা জিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। তাদের মতে, খালেদা জিয়া জিয়া এতিমখানা দুর্নীতির সাথে জড়িত আদালতে এটা প্রমাণ করতে পারেননি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এজন্য মামলা থেকে বেকসুর খালাস পাবেন বলে ধারণা বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ অনেকের।

তবে মামলার রায়ে যদি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হয়েই যায় তাহলে কী হবে? তাকে কী জেলে যেতে হবে ? জেলে যেতে হলে কতো দিন জেলে থকতে হবে ?রায় হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। বিএনপির পক্ষ থেকে এ মামলায় সাজা হলেই রাজপথে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। এই রায়ে যদি বেগম জিয়া খালাস পান তাহলে তো কোনো কথাই নেই। কিন্তু যদি মামলায় তিনি দণ্ডিত হন তাহলে কি হবে? তাকে উচ্চতর আদালতে যেয়ে জামিন নিতে হবে।

কিন্তু বৃহস্পতিবারে রায়ের কপি নিয়ে উচ্চতর আদালতে যাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াও বলেছেন, রায় দিতে দিতে তো বিকেল হয়ে যাবে। তারপর আমরা হাইকোর্ট যাব কীভাবে? তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রায় দেওয়াটাও আমার কাছে কেমন জানি লাগছে। খারাপ রায় দিলে আমাদের জামিনের জন্য পরের সপ্তাহের রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইন অনুযায়ী এই বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হলে বেগম জিয়াকে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যেতে হবে। অবশ্য সানাউল্লাহ মিয়ার সঙ্গে একমত নন, বিএনপি আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ন্যায় বিচার হলে এই মামলায় বেগম জিয়ার সাজা হবার কোনো সুযোগ নেই। সরকার নির্দেশিত রায়ই কেবল বেগম জিয়ার সাজা হতে পারে।আইনগত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দণ্ডিত হলেও বিচারিক আদালতে তাকে আপিল করা পর্যন্ত জামিন দিতে পারে। সেটা না দিলে আমরা হাইকোর্টের যেকোনো চেম্বার জর্জ এমনকি তার বাসাতে গিয়েও জামিন চাইতে পারি। তবে তিনি স্বীকার করেন, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের মনোভাবের উপর।

বৃহস্পতিবার রায় হওয়ায় জামিন একটু মুশকিল হবে। তবে পেনাল কোড বিশষজ্ঞরা বলেছেন, নিম্ন আদালতে দণ্ডিত হলে অন্তত তিন রাত (বৃহস্পতি, শুক্র, শনি) বেগম জিয়াকে জেলে কাটাতেই হবে। রোববার হয়তো তাঁর জামিন চেষ্টা হতে পারে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, বয়স বিবেচনায় তিনি জামিন পাবেন। তাছাড়া অসুস্থতার জন্য এ তিন দিন বেগম জিয়াকে কোনো হাসপাতালেও ভর্তি করা যেতে পারে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে আদালত আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের আদিষ্ট হয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দিলে, সেদিন থেকেই সরকার পতন ঘণ্টা বাজা শুরু করবে।