বিএনপির স্থায়ী কমিটির রোববারের বৈঠক পুরোটাই ছিলো সন্দেহ আর আবিশ্বাসে ঠাসা। বৈঠকে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রায় অর্ধেক সময় দলের ভাঙ্গনে বিশ্বাঘাতকতার পরিণাম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বললেন।

বৈঠক শেষে, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা একজন আরেক জনের দিকে অবিশ্বাস আর সন্দেহের দিকে তাকাচ্ছিলেন। কিন্তু ধৈর্যের বাধ কার কতক্ষণ থাকে? স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকে প্রথমে ইশারা করলেন। এরপর তার হাত ধরে খুব জোরে সেক করলেন।

তখনও মির্জা ফখরুল বুঝতে পারেননি ডঃ মোশাররফ কি বলছেন। এরপর ডঃ মোশাররফ মির্জা ফখরুলের কানের কাছে গিয়ে বললেন, ‘তোমার বিএনপির চেয়ারপারসন কে?’এতোক্ষণে বুঝতে পারলেন মির্জা ফখরুল। হাত সরিয়ে নিয়ে বললেন, ‘আল্লার কসম আমি দালাল না, আমি বেঈমানী করবো না’।

এর আগে বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বাদ দিয়ে রিজভীর হাতে দল পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমার অনুপস্থিতিতে তারেক দল চালাবে। তারেক সব নির্দেশনা দেবে রিজভীকে। আপনারা সবাই রিজভীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।’

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব? আপনি বরং স্থায়ী কমিটির কাউকে দায়িত্ব দেন।’ উত্তরে বেগম জিয়া বলেন, ‘আপনাদের তো পাওয়াই যাবে না। তাছাড়া তারেক রিজভীর সঙ্গেই কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। রিজভী সবচেয়ে আস্থা ভাজন।’

অন্য একজন নেতা জানতে চান, ‘রিজভীকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়?’ উত্তরে বেগম জিয়া বলেন, ‘তখন আপনারা আন্দোলনের দিক নির্দেশনার জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তা তারেক জানিয়ে দেবে।’মূলতঃ, রোববার রাতের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেগম জিয়া স্থায়ী কমিটির সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রিজভীর হাতে তুলে দিলেন।