বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছর কারাদণ্ড হবে বলে নামী-বেনামী বেশ কিছু সাইটে নিউজ আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে,
অথচ এই মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে।
কথিত এই নিউজ সাইটগুলো কোন ধরনের প্রমাণাদি ছাড়াই এমন নিউজ করছে, যদিও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। খালেদা জিয়াসহ চার আসামির জন্যই আদালতের কাছে এই সাজা চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
৩০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নামসর্বস্ব জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকেও তিনি ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি হিসেবে থেকেছেন এবং পদ গোপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসাটি ট্রাস্টির ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ট্রাস্টির অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সোনালী ব্যাংকের শাখায় অ্যাকাউন্ট করেছেন তার নামে। সেখানেও তিনি পদ গোপন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হলেন পাবলিক সার্ভেন্ট। তিনি পদ গোপন করে ব্যক্তিগত নামে ট্রাস্টি কার্যক্রম চালিয়েছেন। ট্রাস্টি আইনের লঙ্ঘন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে ট্রাস্টের নামে টাকা সংগ্রহ করেছেন, যার কোনও উৎস নেই। অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেছেন একক স্বাক্ষরে। টাকা সংগ্রহ করেছেন এবং খরচ করেছেন যার কোনও উৎস নেই।
মোশাররফ হোসেন কাজল আরও বলেন, ‘এই সব অপরাধের কারণে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি আইন অনুযায়ী সাত বছর। আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’
এই আইনজীবী আদালতকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাকে রাষ্ট্র সম্মান দেয়, আমরা সবাই তাকে সম্মান করি। তবে আইন সবার জন্য সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। কোনও ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাহলে তার শাস্তি হবে। আমরা অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি, আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের এই শাস্তি দাবীকেই রায় হিসেবে প্রকাশ করছে নামী-বেনামী নিউজ সাইটগুলো। তবে এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিতে ইতোমধ্যে জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ্ররই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধেও চলছে হয়রানি।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ মামলার অভিযোগ গঠন করেন।





