অবৈধ সরকার আগেই বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় লিখে রেখেছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কর‌্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনি তিনি একথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধী দলের নেতাকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখার জন্য ২৪টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে দু’টো মিথ্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

সপ্তাহে তিন দিন দেশনেত্রীকে আদালতের হাজির হওয়ার নজীরবিহীন নির্যাতন, তারিখে তারিখে জামিন দেওয়ার নজীরবিহীন আদেশ সমগ্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা স্পষ্ট হচ্ছে এখন যে নজীরবিহীন দ্রুততার সাথে মামলা শেষ করার প্রচেষ্টা প্রমান করে যে, এই সরকার বেগম জিয়াকে ভয় করে বলেই তাঁকে রাজনীতি থেকে দুরে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, যেভাবে পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে আদালত ও আদালত সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রাখে তাতে মনে হয় কোন সামরিক শাসনের অধীনে সামরিক আদালতে এই বিচারকার্য চলছে। একজন সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা যিনি বারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দুই বার বিরোধী দলের নেতা যিনি দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন. যিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ ১২ মাস কারাবরণ করেছেন, তাঁর সঙ্গে এই ধরণের অবমাননাকর, অমানবিক আচরণ শুধুমাত্র সামরিক শাসন এবং ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত কয়েক দিনে সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির সদস্য এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই অবৈধ সরকারের বিশেষ দূত হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন-অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে। তাহলে দেশনেত্রীর মামলার রায় পূর্বেই নির্ধারিত। এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছেন। তবে এই বিচারের প্রহসনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। দেশে যে আইনের শাসন নেই-ন্যায় বিচার সুদুর পরাহত সেটাই প্রমানিত হলো।