একটা পেশার নাম ‘বেশ্যা’। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সাংবাদিক, পুলিশ, আইনজীবি, দোকানদারদের মতোই একটি পেশা। মূলধন টাকা আর পড়াশোনার জায়গায় শরীর শুধু। তাতেই পেশার নাম হয়ে গেল গালি! অথচ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ইত্যাদি বলে কেউ গালি দেন না। গালি দেন বেশ্যাকে।
আমি সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষের মতো বেশ্যাদেরও সম্মান করি, ভালবাসি। বেশ্যাদের মতো অত পরিশ্রম, কষ্ট-যন্ত্রণা হয়ত সইতে পারব না কোনদিন! আমাকে তাই ‘বেশ্যা’ বলে গালি দিলে গালি গালি ফিলও আসে না। কিন্তু করুণা হয়, যারা গালি দেয় তারা কতখানি অশিক্ষা নিয়ে সমাজে সমাজে বিষ্ঠা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে তা ভেবে।
বেশ্যারা সমাজে ঘৃণিত। কিন্তু ভেবে পাই না, কোন সমাজে বেশ্যারা এতই যখন ঘৃণিত; সেই সমাজে, সেই পৃথিবীতে বেশ্যাবৃত্তি কিভাবে প্রাচীন পেশা হচ্ছে? কারা টিকিয়ে রাখছে? যারা টিকিয়ে রাখছে, যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে, যারা বেশ্যাদের কাছে যাচ্ছে তাদেরকে কেন গালি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না? তাদের চারিত্রিক ব্যবচ্ছেদের স্যাম্পল নিয়ে কেন কোন গালি তৈরি হয়নি?
কারণ চরিত্র নারীর একার থাকে, পুরুষের থাকে না? পুরুষের চরিত্র খারাপ হতেই পারে না, তারা যা করবে গঙ্গাস্নানে পুত:পবিত্র পুরোহিতের ঘটির জলের মতো বিশুদ্ধ হয়ে যাবে!





