বর্তমান সময়ে রাজনীতিবিদদের বৃহৎ অট্টালিকা, বিলাসবহুল বাড়ি ও দামি গাড়ি থাকাটা একাবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সময়ে একজন সাংসদের যদি ভাঙা খাট, হুইল চেয়ার ও এক জোড়া কাপড় থাকে, সেটা একেবারে উল্টো ঘটনা হয়ে গেলো না। মোহাম্মদ ইউসূফ ব্যক্তি জীবনে নিঃস্ব।
নিজের নামে নেই কোনো জায়গা সম্পত্তি। পৈতৃক বাড়ি বলতে ছিল ছোট কুঁড়েঘর। নিজের সম্পদও দান করেন দেন। মুক্তিযুদ্ধে পটিয়ার কমান্ডার শাহ আলমের নেতৃত্বে মোহাম্মদ ইউসূফ ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা। বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিতেন না কোনো ভাতা।
সরেজমিনে গিয়ে সাবেক এ সাংসদের জীবন-যাপনের এমন দৈন্য-দশা দেখা যায়। বর্তমানে সৎ ভাইদের তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংসদ থাকাকালীন সময়ে বাসে করেই যাতায়াত করতেন।তিনি। ছিল না কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি। স্বাধীনতার পর টানা ২০ বছর টায়ার দিয়ে বানানো জুতোই পড়তেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় এক আত্মীয়ের দেয়া পাঞ্জাবি-পায়জামা দিয়ে ৬ মাস কাটিয়েছেন।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগরের আদর্শবান এ রাজনৈতিক নেতা দল ও জনগণের কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন। রাজনীতির জন্য নিজেকে এতটাই উৎসর্গ করেছিলেন, যার কারণে বিয়েও করেননি তিনি।
সাংসদ হবার আগে থেকেই কমিউনিস্ট পার্টির তুখোড় নেতা ছিলেন তিনি। কর্ণফুলী জুট মিলে সিবিএ নেতা থাকা কালীন শ্রমিকদের বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে ছিলেন সোচ্চার। তাকে আন্দোলন থেকে দূরে থাকতে ১০ লাখ টাকা ও একটি ভবন দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই। শেষ পর্যন্ত মামলা করে শ্রমিকদের বকেয়া আদায় করে ছাড়েন।
নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সাবেক সাংসদ ইউসূফের ছিল হৃদত্যাপূর্ণ সম্পর্ক। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অহংকারহীন এ মানুষটি সাংসদ হলেও, পুলিশ সুরক্ষা ছাড়াই নিজ নির্বাচনী আসনে ঘুরে বেড়াতেন।
সাদামাটা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত ৬৬ বছর বয়সী এ সাবেক সাংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা ইউসূফের জীবন আজ মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
আর গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসুস্থ সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরই তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মোহাম্মদ ইউসুফের চিকিৎসায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. অশোক কুমার দত্তের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।





