নারায়ণগঞ্জ শহরে গত সাত দিন ধরে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতার কারণে শহরের সবগুলো এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত আছে। ফলে লোকজন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারছে।

এতে যখন শহরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করছেন তখন উচ্ছেদ হওয়া হকাররা তাদের নিয়মিত আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। রোববার সকালে তারা শহরে সমাবেশ শেষে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে স্মারকলিপি দিয়ে পুনর্বাসনের আগে ফুটপাতে বসতে দেয়ার দাবি জানালেও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেবেন না জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে গুলি খাবো তবুও এ সড়কে কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না। তবে হকারদের বিকল্প স্থান বের করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যৌথসভা করে হকারদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

এর আগে হকাররা শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিন ধরেই সমাবেশ করে আসছিল। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করে। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা করেন হকাররা। তখন শামীম ওসমান আগে হকারদের আইভীর সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলামসহ অন্যরাও হকারদের পক্ষে অবস্থান নেন।

এদিকে রোববার সকালে জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে চাষাঢ়া শহীদ মিনার ও পরে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে হকারদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হযরত আলী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে হকারদের মিছিল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করে। এতে হকাররা বলেন, আমরা চার হাজারের বেশি হকার নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ফুটপাথে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবন যাপন করছি। আমাদের পরিবার পরিজনসহ জনসংখ্যা হবে প্রায় ১৫ হাজার। দেশে সীমাহীন বেকারত্বের কারণে বেঁচে থাকার তাগিদে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। জনসাধারণের চলাচলে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সে কথা বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রতিদিন বিকাল ৫টার পর এবং সরকারি ছুটির দিনে আমাদের দোকান বসাই। আমাদের কারণে শহরের রাস্তায় কোনো যানজট হয় না।

মেয়রকে দেয়া স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, কোনো প্রকার পুনর্বাসন ছাড়া ফুটপাত থেকে আমাদের দোকানপাট উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যাহার করে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।

আইভী স্মারকলিপি গ্রহণ করে বলেন, প্রয়োজনে গুলি খাবো তাও একটি হকারও বঙ্গবন্ধু সড়কে বসতে দেবো না। কোনো রাজনৈতিক নেতা এমপিরা হকারদের জন্য কিছু করেনি বরং তাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে আমিই মার্কেট করে দিয়ে ৬৭৫ জন হকারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।