রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা এবং আরব অঞ্চলে ইরানি প্রভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রদর্শনের লক্ষ্যে সৌদি যুবরাজ বেশ কয়েকটি অলঙ্ঘনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- রাজপরিবারের বেশ কিছু সদস্য, অর্থাৎ প্রিন্স ও মন্ত্রীদের গ্রেফতার এবং ইসরাইলের সাথে আংশিক হলেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া।

কিন্তু প্রথমে ফিলিস্তিন সঙ্কটের একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধানে পৌঁছা ছাড়া আরবদের ইসরাইল বয়কটের অবসান ঘটানোর বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া হলে তা ফিলিস্তিন এবং সৌদি আরব, উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হবে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রধান গাদি ইজেনকোটে একটি সৌদি নিউজ আউটলেটের সাথে এ যাবৎকালের প্রথম সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরাইল ইরানের ব্যাপারে সৌদি আরবের সাথে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করতে প্রস্তুত। এ ছাড়া এবারই প্রথম, গত সপ্তাহে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিবার পরিষদে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সাথে ইসরাইল যৌথভাবে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। অধিকন্তু, ইসরাইলি যোগাযোগমন্ত্রী আইয়ুব কারা সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজ আল শেখকে ইসরাইল সফরের জন্য উষ্ণ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইসরাইলি মন্ত্রী জানান, ইসরাইল সম্পর্কে বন্ধুত্বপূর্ণ মন্তব্য করার জন্য সৌদি গ্র্যান্ড মুফতিকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপকে ‘বৈধতা’ দেয়ার জন্য সৌদি আরব গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে রিয়াদে ডেকে পাঠায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ উপদেষ্টা জারড কুশনার যে শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছেন, তা গ্রহণের ব্যাপারে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর জন্য তাকে সৌদি আরব তলব করেছে। ওই পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে, সৌদি-ইসরাইল একযোগে কাজ করা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যবস্থার সাথে- ইসরাইলি যাত্রীবাহী বিমানের ওভারফ্লাইট, ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা এবং সৌদি আরব, মিসর, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা। ‘এম বি এস’ বা যুবরাজ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে ইসলামি বিশ্বে সৌদি আরবের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।