মাতৃভাষা মালায়লামে নিজের কথা বলতে শুরু করেন হাদিয়া। ইসলাম গ্রহণ করার জন্য তাঁকে মোটেই জোর করা হয়নি এবং তিনি বর্তমানে তাঁর স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান, একথা জানান হাদিয়া। এরপরই তাঁর অভিযোগ, বাবা-মা এবং কেরললা হাইকোর্ট তাঁকে জোর করে ১১ মাস ধরে ‘বেআইনি হেফাজতে’ রেখেছে।

কেরলের হাদিয়াকে (শাফিন জাহানের সঙ্গে বিয়ের আগে অখিলা অশোকান নামে পরিচিত) বাবা-মার হেফাজত থেকে মুক্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। হাদিয়া-শাফিনের বিয়ের ব্যাপারে সোমবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালত কোনও মন্তব্য না করলেও, হাদিয়ার আইনজীবী জানিয়েছেন, এবার তিনি স্বামীর সঙ্গেও দেখা করতে পারবেন। হোমিওপ্যাথির ছাত্রী হাদিয়াকে এদিন লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোস্টেলে থাকার নির্দেশও দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। হাদিয়ার বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়টি জানুয়ারি মাসে ফের শুনানি করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত। আপাতত এ বিষয়ে তদন্ত করছে এনআইএ। আদালত কক্ষে সংবাদমাধ্যম থাকবে নাকি বন্ধ দরজার ভিতরেই বসবে আদালত, এনিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্য এদিন নিজের বক্তব্য পেশ করতে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করতে হয়েছে হাদিয়াকে।

প্রসঙ্গত, হোমিওপ্যাথির ছাত্রী ২৬ বছরের হাদিয়ার সঙ্গে ওমান ফেরত্ শাফিন জাহানের পরিচয় হয় এক ইসলামি বিয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিয়ে হয়। যদিও হাদিয়ার বাবা কেএম অশোকানের অভিযোগ, মেয়ের মগজধোলাই করে তাঁকে বিয়ে করেছেন শাফিন জাহান। মামলা দায়ের হয় কেরলা হাইকোর্টে। এরপর মে মাসে কেরলা হাইকোর্ট এই বিয়েকে বাতিল করে দেয় এবং হাদিয়াকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তখন থেকেই কেরলার কোট্টায়মে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হন হাদিয়া। এরপর কেরলা হাইকোর্টের বিয়ে বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন শাফিন জাহান। ইতিমধ্যেই কেরলা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে এই মামলায় এনআইএ তদন্ত শুরু হয়েছে। যে ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে হাদিয়া-শাফিনের যোগাযোগ হয়েছিল সেটিকে ‘নকল’ বলে দাবি করেছে জাতীয় তদন্তকারী দল। তাদের মতে, ওই ওয়েবসাইটটির আসল উদ্দেশ্য জোর করে ধর্মান্তকরণ এবং জঙ্গি বাহিনীতে নিয়োগ করা।