রেস্টুরেন্টে তো অহরহই খেতে যাওয়া হচ্ছে। কখনো পুরো পরিবারের সকলে মিলে, কখনো বন্ধুবান্ধবদের সাথে অথবা কখনো শুধুমাত্র প্রিয় ও ভালোবাসার মানুষটার সাথে। বিশেষ দিনগুলোর জন্য এমন একটা রেস্টুরেন্ট খোঁজেন সবাই যেখানে ভালোবাসার মানুষটার সাথে একান্তে খুব দারুণ পরিবেশে, গানের তালে মজাদার কিছু খাবার খাওয়া যাবে। কিন্তু এমন কোন রেস্তুরেন্ট খুঁজে পাওয়া ভার, যেখানে শুধুমাত্র দু’জনে মিলে কিছু ভালো সময় কাটানো সম্ভব
। আশেপাশে মানুষে ভিড় থাকবে না, কোন লাইন থাকবে না, কোন অপেক্ষা থাকবে না। হয়তো ঠিক এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই গড়ে তোলা হয়েছিল “জাস্ট ফর টু” নামক একেবারেই ভিন্নধর্মী ও দারুণ এই রেস্টুরেন্টটি।
পৃথিবীর সবচাইতে ছোট্ট এই রেস্টুরেন্টটি তৈরি করা হয়েছে সেন্ট্রাল ইটালীর ভ্যাকোন শহরের নব্বই দশকের একটি অট্টালিকায়। রেস্টুরেন্ট তৈরির সময় খাবার পরিবেশন করার জন্যে অট্টালিকার মাঝে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। জাস্ট ফর টু নামক এই রেস্টুরেন্টে রয়েছে শুধুমাত্র একটি টেবিল এবং তার সাথে বসার জন্য দুইটি চেয়ার। যারা এই রেস্টুরেন্টে আগে থেকে বুকিং দিয়ে খাবার খেতে যাবেন, তাদেরকে সঠিকভাবে ও পরিপূর্ণভাবে সেবা প্রদান করার জন্য এবং তাদের প্রতি সকল মনোযোগ দেওয়ার জন্যেই এমন ব্যবস্থা!
জাস্ট ফর টু ছবি ১
কোন এক ক্রেতার জন্য সুসজ্জিত জাস্ট ফর টু রেস্টুরেন্ট।
যাই হোক, এই দারুণ ও বিশেষ রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে ক্রেতাদের কয়েক মাস আগে থেকে নির্ধারিত সময়ের জন্য বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। কখনো কখনো এই কয়েক মাস এক বছর সময় পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে!
তবে একবার ক্রেতারা যখন তাদের পূর্ব নির্ধারিত সময়ে রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হন তখন রেস্টুরেন্টের ভেতরের সাজসজ্জা, গান, খাদ্য সকল কিছুই দশদিন আগে থেকে একদম নিখুঁত ও পরিপাটি ভাবে গোছান থাকে। পরিবেশনের জন্য যে সকল খাদ্য প্রস্তুত করা হয়, তার সকল উপাদান এলাকার বাজার থেকে একদম ভোর সকালে কেনা হয়। যেন প্রতিটি উপাদান একদম তাজা থাকে ও তার গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে।
রেস্টুরেন্টের মালিক রেমো ডি ক্লডিয়া (Remo Di Claudio) জানান, “সাধারণত আমরা ক্রেতাদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই যে, তারা কখন রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করবেন। কারণ, আমরা তাদের রেস্তুরেন্টে প্রবেশের পূর্বেই পঞ্চাশটি মোমবাতি জ্বালিয়ে বাগান সাজিয়ে রাখতে রাখতে পারি। এছাড়াও আমরা তাদের কাছ থেকে জেনে রাখি কোন বিশেষ উপলক্ষ্য সেদিন উদযাপন করা হবে।”
জাস্ট ফর টু ছবি ২
খাবার খাওয়ার পূর্বে ও পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও রয়েছে জাস্ট ফর টু রেস্টুরেন্টে।
অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মতো তাদের ইচ্ছানুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয় না এই রেস্টুরেন্টে। একটা ঘণ্টা থাকে ক্রেতাদের কাছে। তারা যখন চাইবেন খাবার পরিবেশন করা হোক, তখন ঘণ্টা বাজিয়ে জানিয়ে দেওয়ার পড়েই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার পরিবেশন করা হয়।
রেস্টুরেন্টটির খুঁটিনাটি এই বর্ণনাগুলো জানার পরে নিশ্চয় এই রেস্টুরেন্টে একবেলার জন্য খেতে যেতে ইচ্ছা করছে আপনার! তবে জেনে রাখুন, এই রেস্টুরেন্টে খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য একজন মানুষের জন্য খরচ হবে ৪০০ ডলার। যা বাংলাদেশী মূদ্রায় ৩৩,৯২০ টাকা মাত্র!
জাস্ট ফর টু ছবি ৩
আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ক্রেতাদের সামনে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।
তবে এমন চড়া মূল্যের পরেও ক্রেতাদের মাঝে তেমন কোন প্রভাব একেবারেই পরে না। যেমনটা পরেনি মাউরিজিয়া ফ্রেডো নামক একজন ক্রেতার। যিনি তার স্বামীর সাথে তাদের ২০তম বিবাহ বার্ষিকী পালন করার উদ্দেশে রেস্টুরেন্ট এসেছিলেন।
রেস্টুরেন্টে খাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ফ্রেডো বলেন, “রেমো (রেস্টুরেন্টের মালিক) একটি সুন্দর স্বপ্নকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন, যা আমরা শুধুমাত্র এখানে এসেই খুঁজে পেয়েছি। এই স্বপ্নের মাঝে নিজেদের খুঁজে পাবার জন্য বিগত দশ ধরেই প্রতি বছরে আমরা এখানে আসি এবং আমরা আশা রাখি যে ভবিষ্যতেও আমরা আসব।”
বছরখানেক আগে থেকে যে রেস্টুরেন্টে বুকিং দিয়ে রাখতে হয় সেই রেস্টুরেন্টে বিগত দুই বছরে কতগুলো রিজার্ভেশন তৈরি করা হয়েছিল জানেন? দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ২৫০ টার মতো!





