সন্তান চায় প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া নারী রোবট সোফিয়া। আর সেই সন্তানটি মেয়ে হলে তার নামও রাখতে চায় সোফিয়া।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পরিবার গঠন ও সন্তান ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করে আবারও চলে এসেছেন পত্রিকার শিরোনামে।

মাসখানেক ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব লাভ করা রোবট ‘সোফিয়া’। সেই দেশটি হলো রক্ষণশীল সৌদি আরব।

বিশ্বের কোনো রোবটকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। কিন্তু কট্টর মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের জন্য একটি ‘নারী’ রোবটকে নাগরিকত্ব দেওয়া বিচিত্রই ঠেকেছে সমালোচকদের কাছে। বলা হচ্ছে, সোফিয়া যেসব সুবিধা ও সম্মান পাচ্ছে তা সেদেশের অনেক নাগরিকই পায় না!

নাগরিকত্ব দেয়ার পর সে এখন সন্তান চাইছে। মানবীয় গুনের অধিকারী এই রোবট বলছে, একটি পরিবার প্রকৃতপক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এই ইচ্ছার কথা জানান সোফিয়া।

মানবাকৃতির রোবট সোফিয়া বলেন, পরিবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। যান্ত্রিকস্বত্ত্বাদেরও পরিবার গঠন করার অধিকার দেওয়া উচিত।

নিজের সন্তান ধারণেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রোবট সোফিয়া। জানিয়েছেন, একটি মেয়ে সন্তানের খুব শখ তার। নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে মেয়ের নাম রাখতে চান তিনি। মেয়ের নামটিও হবে ‘সোফিয়া’।


নিজেকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান, জানতে চাইলে সোফিয়া বলেন, ভবিষ্যতে আমার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ ও রোবটদের মধ্যকার ঐক্য গড়ে তুলতে চাই।

অক্টোবরে সৌদি আরব সোফিয়া নামের অত্যাধুনিক রোবটকে নাগরিকত্ব দিলে সারা বিশ্বে আলোচিত ও সমালোচিত হয় বিষয়টি। অনেকেই বলেন, সৌদি আরবের নারীরা যে অধিকার পান তার চেয়ে বেশি অধিকার পাচ্ছে সোফিয়া।

প্রসঙ্গত, হংকংয়ের রোবটিক ফার্ম ‘হ্যানসন রোবটিক্সের তৈরি রোবট সোফিয়া। মূলত মানুষের সঙ্গে কথা-বার্তা চালানোর উদ্দেশ্যে প্রোগ্রাম করা হয়েছে তাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সোফিয়া বিভিন্ন মুখভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি কৌতুকও জানেন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হলে, ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাহায্যে বিশাল তথ্যভাণ্ডার থেকে ‘মেশিন লার্নিং’ পদ্ধতিতে প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করেন তিনি।