মায়ের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে চাকরি খুঁজছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো: আজগর আলী। বহুবছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আজও চাকরি পায়নি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন অসুস্থ মা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। দুই চোখের পানি মুছতে মুছতে কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো: আজগর আলী।
চোখের পানি মুছতে মুছতে মো: আজগর আলী বলেন, আমি পৃথিবীতে আসার মাত্র চার বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুইটি চোখের দৃষ্টি হারিয়েছি। তার আগে জন্মের দেড় বছর পর বাবা তমছের আলী বিশ্বাসকে হারিয়েছিলাম। মা কুলছুম বেগম এখনো অসুস্থ। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন রাজবাড়ি সদর হাসপাতালে। জন্মের পরই দৃষ্টি হারিয়ে তাদের বোঝা হয়ে উঠেছিলাম। আমার ৫ ভাই আর ২ বোন আছে। কোনো মতে তাদের টাকায় সংসার চলতো। আমি অন্ধ হলেও পড়ালেখা বন্ধ করিনি। ঢাকার আসাদগেইট সরকারি অন্ধ বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করেছি। তারপরে ভর্তি হই নিজ গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পাশ করি। সম্বলিত অন্ধ শিক্ষা প্রকল্পের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হই। সেখানে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করি। তবে টাকার অভাবে এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারিনি। পরিবারের অন্য সদস্যরা কেউ আমাকে সাহায্য করে না।
আয়ের সন্ধানে কী কী করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা না দিতে পেরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বৃত্তিমূলক একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলাম। সেই প্রশিক্ষণে বাঁশ, বেত দিয়ে নানান উপকরণ তৈরী ও নার্সারীর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম কিন্তু সময় উপযোগী না হওয়া বাঁশ ও বেতের উপকরণের চাহিদা কমে যায়। তাই এই প্রশিক্ষণ নিয়েও কোনো কাজ করতে পারিনি। না পারার জন্য অন্যতম কারণ ছিলো অর্থনৈতিক সংকট।
কর্মসংস্থানের আশা নিয়ে প্রশিক্ষণ নিলেও প্রশাসন থেকে চাকরির কোনো ব্যবস্থা করেননি।’
বেঁচে থাকার জন্য একটি চাকরির আশায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দিয়েছেন অনেক পরীক্ষা। তারপরও পাননি চাকরি। নিজেদের অধিকার আদায়ের আশায় নিজ উদ্যোগে তৈরী করেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংগঠন। সেখানেও তিনি তার অধিকার আদায় করতে পারেননি। এই শত প্রতিকূলতা আর প্রতিবন্ধকতার মাঝে তিনি লিখেছেন ২৫টির মতো কবিতা। তার মধ্যে রয়েছে ‘মুজিবুর রহমান’ নামে একটি কবিতা। লিখেছেন একটি উপন্যাস ও কিছু গান এবং ছোট গল্প। কোনো কাজ না পেয়ে তার লেখা বইটি প্রিন্ট দিয়ে বিক্রি করতে লাগলো উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন লোকের কাছে। তারপরও সে নিজের সম্মানের কথা চিন্তা করে ভিক্ষা করেননি।
আজগর আলী আরও বলেন, রেলমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম, একটি চাকরির আশায়। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু এখনো হয়নি। রেলওয়ের কয়েকটি পদেই আবেদন করে রেখেছি। সরকারি চাকরিতে আবেদন করার বয়স আগামী ১০ ফেব্রুয়ারী শেষ হয়ে যাবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন করছি আমার বিষয়টি যদি তিনি দেখেন, আমার বেঁচে থাকার জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। চাকরিটা হলে আমার মায়ের চিকিৎসা করাতে পারবো। তাছাড়া মহৎ মনের ব্যক্তিরা একটু এগিয়ে আসলেই মায়ের জীবন বাঁচাতে পারবো।
আজগরকে সাহায্য করতে পারেন নিচের ঠিকানায়:
মো : আজগর আলী(দৃষ্টি প্রতিবন্ধী)
গ্রাম: লক্ষীকোল
ডাকঘর, থানা+ জেলা: রাজবাড়ী
ইমেইল: hmmams.im@gmail.com
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:-
মোবাইল: ০১৭১৭৪৮৫৭৩০ (বিকাশ)
ডাচবাংলা-০১৭১৭৪৮৫৭৩০৫।





