দেশের বাজারে গলদা চিংড়ির দামে ব্যাপক ধস দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, চিংড়ির ঘের করে তারা সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। লাভতো দূরের কথা খরচের টাকাও উঠছে না। গলদা চিংড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দামে।

খুলনার মংলার চিলা গ্রামের ঘের মালিক বিজন বৈদ্য। আট বিঘা ঘেরে গলদা চিংড়ি চাষ করেছেন তিনি। বিজন বৈদ্য বলেন, গত বছর প্রতি কেজি গলদা চিংড়ি বিক্রি করেছিলেন ১২শ’ টাকা দরে। এবার সেই আকারের চিংড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৭৫ থেকে ৫শ’ টাকায়।

একাধিক চিংড়ি চাষি জানান, এবার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ব্যাংক লোন করে যারা চাষ করেছেন তাদের অবস্থা আরো খারাপ। দাম কম হওয়ায় হাজার হাজার চিংড়ি চাষি পথে বসার মতো অবস্থা। মৎস্য অফিস সূত্র বলছে, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক ছোট-বড় গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে।

জানা যায়, চলতি চিংড়ি মৌসুমে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত রপ্তানিজাত গলদার দামে আকস্মিক ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমেছে গলদার। দুই বছরের ব্যবধানে গলদা চিংড়ির রপ্তানি বাজার কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। দেশের গলদা চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার ছিল যুক্তরাজ্য। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ায় গলদা চিংড়ি কিনছে না তারা। ফলে পানির দামে চাষিরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন গলদা চিংড়ি।

মহানগরীর কেসিসি রূপসা পাইকারি মৎস্য বাজারের আবু মুসা নামের একজন আড়তদার বলেন, বর্তমানে ৫ গ্রেডের গলদা চিংড়ি কিনছেন ৭০০ টাকায়। এছাড়াও ৮ গ্রেডের চিংড়ি ৫৫০ টাকা, ১০ গ্রেডের ৫০০ টাকা এবং ১২ গ্রেডের চিংড়ি কেনা হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র না কিনলেও স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম গলদা চিংড়ি কিনছে বলে জানা গেছে। আড়তদার ও বিক্রেতারা বলছেন, গত বছর গলদা চিংড়ির যে দাম ছিলো এ বছর তার অর্ধেকও নেই।
জানা গেছে, বর্তমানে ৫ গ্রেডের মাছ এখন ৭শ’ টাকা। ৮ গ্রেডের মাছ এখন সাড়ে ৬শ’ টাকা। অথচ গত বছর ৫ গ্রেডের গলদার দাম ছিল ১২শ’ টাকা, ৮ গ্রেড ছিল ১ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শেখ মো. আব্দুল বারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গলদা চিংড়ির চাহিদা অনেকাংশে কমে গেছে। গত বছর যে চিংড়ির দাম ছিল ১২ ডলার ছিলো সেটির দাম এ বছর ৮ ডলার। ফলে ধ্বস নেমেছে দেশীয় চিংড়ির বাজারে।