সুনামগঞ্জে পরীক্ষার হলে নকলে বাঁধা দেয়ায় দায়িত্বপালকারী এক শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে রিয়াজ মাহমুদ শাহ নামে এক জেএসসি পরীক্ষার্থী। সে উপজেলা বিএনপি নেতা শাহজাহান শাহ্ ছেলে।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) এ ঘটনাটি ঘটে। আহত শিক্ষকের নাম সীতেষ চন্দ্র সরকার। তিনি জেলার জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।

জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নয়াহালট গ্রামের শাহজাহান শাহ্র ছেলে রিয়াজ মাহমুদ শাহ্ জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে গত ১৬ নভেম্বর পরীক্ষার হলে অন্য পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উত্তর জানা ও উত্তর বলে দেয়ার এক পর্যায়ে হলে দায়িত্বপালনরত শিক্ষক সীতেশ চন্দ্র সরকার বাঁধা প্রদান করেন।

এদিকে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ শাহ শিক্ষককে ‘এক মাঘে শীত যায় না’বলে হুমকি প্রদান করলে ওই শিক্ষক তাৎক্ষণিক ভাবে বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব ও আইনশৃংখলার রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারকে অবগত করেন।

মারধরের শিকার আহত শিক্ষক সীতেশ চন্দ্র সরকার বুধবার বললেন, রিয়াজ মাহমুদ শাহ্ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাকে তার বাসার কাছে পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে বেধরক ভাবে পেটাতে থাকলে আমার চিৎকার শুনে সহকর্মী শিক্ষিকা ও পথচারীরা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী জানান, আহত শিক্ষকের ঘাড়ের নিচে ডান দিকে ও ডান হাতে মারধরের বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব বিধান ভূষন চক্রবর্তী বুধবার বললেন , আহত শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বিষয়টি থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ শাহ’র পিতা উপজেলা বিএনপি নেতা শাহজাহান শাহ্র নিকট তার ছেলে কতৃক শিক্ষককে পেটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বুধবার বললেন, বিষয়টি ‘ভুল বুঝাবুঝি’। শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ছেলে শিক্ষকের সাথে সামান্য বেয়াদবী করেছে।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বুধবার বললেন, বিষয়টি জেনেছি তবে অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।