মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ঠাকুরেরর বাজার নামক এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক সংখ্যালগুর বাড়ীতে প্রতিপক্ষের হামলায় এক পিএসসি পরীক্ষার্থী ও তার পিতা-মাতা সহ আহত তিন জনকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ঠাকুরেরর বাজার নামক এলাকার রসই মালাকার (৫৫) তার স্ত্রী দীপ্তী রাণী মালাকার (৪৫) তাদের মেয়ে বাদুদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবারের পিএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারী শিক্ষার্থী বৃষ্টি মালাকার (১০) প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন,পরে তাদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

২১ নভেম্বর সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রসই মালাকার এর ছেলে প্রফুল্ল মালাকারের সাথে আলাপ কালে তিনি অভিযোগ করে বলেন গতকাল রাতে ঠাকুর বাজার এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ইসলাম মিয়ার দোকানের সামনে আমার একটি অটোরিক্সা চালক ভুল বসত রেখে যায়,এনিয়ে তার সাথে বাক-বিতন্ডা দেখা দিলে বাজার কমিটির সভাপতি ফারুক মিয়া তাৎক্ষনিক বিষয়টি শেষ করে দেন।

কিন্তু এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকাল ০৭-০০ টার দিকে ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে আজাদ মিয়া,মিজান মিয়া,মাসুক মিয়া,কালাম মিয়া ও জামাল মিয়া,হায়দার মিয়া সহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র লাঠি সোঠা নিয়ে আমাকে খোঁজতে থাকে আমি প্রান ভয়ে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়ি। আমাকে না পেয়ে আমার বাবা, মা ও একমাত্র ছোট বোন মুন্সীবাজার কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের পিএসসি পরিক্ষার্থী বৃষ্টির উপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায় যে, আমাকে পেলে হাত পা ভেঙ্গে রাস্তায় ফেলে রাখবে। ইসলাম বাহিনীর লোকজন চলে গেলে আমি কমলগঞ্জ থানাকে ঘটনাটি মুঠো ফোনে জানালে এস আই কৃষ্ণমোহন দেবনাথের নেতৃত্বে কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাদের সহযোগীতায় আমার মা,বাবা,বোন কে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করাই।

এদিকে ছাত্রীটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট পর বাদুদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী আহাদ মিয়া আহত শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। আহত অবস্থায় বৃষ্টি বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় পরীক্ষাটি সম্পন্ন করে।

শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব সত্যেন্দ্র কুমার পাল ও হল সুপার আফিয়া বেগম শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

ঘটনাটির বিষয়ে হামলাকারী ইসলাম মিয়ার সাথে তার মুঠো ফোনে (০১৭৪৩-৯০০৪৪৬) এই নাম্বারে আলাপ কালে তিনি বলেন যে গতকাল রাতে প্রফুল্লের সাথে আমার ।

বাক-বিতন্ডা সৃষ্টি হলে এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে তার পিতার কাছে নালিশ করতে তার বাড়ীর পাশে সবজি বাগানে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তর্কাতর্কি হলে আমার ছোট ভাই বাশ দিয়ে দুটি বারী দেয় আর কিছু হয়নি। শিক্ষার্থীকে ও মহিলাকে মারার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনাটি শুনে আমি সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।