সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে দেড় লক্ষাধিক টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় র‍্যাব সদর দপ্তরের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম মো. গাউছুল আজমের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী গ্রামের আকরামুল ইসলাম (২৫), কুটুমবাড়ী আবাসিক হোটেলের কর্মচারী নয়ন ফকির (২৭), হোটেল মাদার বক্সের মালিকের ছোট ছেলে লিটন তালুকদার ও কর্মচারী সাইদুল ইসলাম। তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাহী হাকিম গাউছুল আজমের ভাষ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কুটুমবাড়ী আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কক্ষ থেকে সাবেক প্রেমিকাসহ আকরামুলকে আটক করা হয়। দেড় বছর আগে সৌদিপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে আকরামুলের প্রেমিকার বিয়ে হয়েছে। নিজের জন্মদিন পালন করতে সন্ধ্যায় প্রেমিকাকে নিয়ে ওই হোটেলের একটি কক্ষ দুই ঘণ্টার জন্য দুই হাজার টাকায় ভাড়া নেন আকরামুল। সেখানে তাঁদের সহযোগিতা করেন হোটেলবয় নয়ন ফকির।

অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর দায়ে আকরামুলকে এবং এ কাজে সহযোগিতা করায় হোটেলবয় নয়নকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানোর দায়ে মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর সময় আকরামুল নিজের অপরাধ স্বীকার করে সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘স্যার, আমি যে ভুল করছি আর জীবনেও এই কাজ করব না। আর স্যার, এই কাজ যেন জীবনেও আর কেউ না করে।’
কুটুমবাড়ী হোটেলে অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী হাকিম গাউছুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিতরে ছোট ছোট কিছু কক্ষ আছে। অর্থাৎ আবাসিক হিসেবে এরা ভাড়া দেয়। এখানে কিছু অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আছে। এই হোটেলের অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আছে। লাইসেন্স তারা নবায়ন করতে দিয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে হোটেলটিকে আমরা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।’
অপরদিকে, হোটেল মাদার বক্সের একটি কক্ষে চারটি ইয়াবা বড়ি ও মদের বোতল রাখার দায়ে মালিক লিটন তালুকদার ও কর্মচারী সাইদুল ইসলামকে ছয় মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া অনুমোদন নবায়ন না করায় নিমন্ত্রণ হোটেলকে ২০ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের দায়ে আরমানী রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার টাকা, বিএসটিআইয়ের অনুমোদনবিহীন কেক তৈরি করায় টফি বেকারির মালিক আনোয়ার হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা, অনুমোদনহীন কেক বিক্রির দায়ে হেলথ কনফেকশনারিকে ১০ হাজার টাকা এবং বিএসটিআইয়ের লেবেল না লাগিয়ে ঘি বিক্রির দায়ে ধানসিঁড়ি দইঘরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় র‍্যাব ১২-এর কোম্পানি কমান্ডার তানভীর আহম্মেদ, জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আলী জিন্নাহ, বিএসটিআই রাজশাহীর পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।