মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের মোট জনসংখ্যা ২৬ লাখের কাছাকাছি। তেলসমৃদ্ধ দেশটির প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ অভিবাসী, যাদের বেশির ভাগই শ্রমিক।
কিন্তু দেশটির শ্রমিক অধিকারের সঙ্গিন অবস্থার জন্য বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহুদিন ধরে সোচ্চার। তবে কাতার প্রথমবারের মতো বিদেশী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরির বিধান রাখতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার কাতারের শ্রমমন্ত্রী ইসা আল নুয়াইমি জানান, এটি ২০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হবে। খবর এএফপি।
নুয়াইমি বলেন, অস্থায়ীভাবে প্রতি মাসে ন্যূনতম মজুরি ৭৫০ রিয়াল (১৯৫ ডলার) এখন থেকেই কার্যকর হবে, তবে কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে একটি স্থায়ী হার ঠিক করার ব্যাপারে হিসাব করছেন। নতুন বেতনের পাশাপাশি শ্রমিকরা বিনামূল্যে বাসস্থান, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, যেগুলোর খরচ বহন করবেন নিয়োগদাতা।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। আয়োজন সফল করতে দেশটি প্রতি সপ্তাহে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞে আরো অধিক পরিমাণ বিদেশী শ্রমিক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনায় দেশটির শ্রম অধিকারের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। গত মাসে ন্যূনতম মজুরিসহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে কাতার সরকার একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়, যেটি নিয়ে প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা হচ্ছে।
এর আগে কাতার কখনই ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু করেনি। কর্মকর্তারা জানান, পর্যালোচনার পর বর্তমানে স্থির করা ৭৫০ রিয়ালের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। নুয়াইমি বলেন, যদি বেতনের পরিমাণ ৭৫০ কাতারি রিয়ালের কম হয়, তবে আমরা কোনো নিয়োগ চুক্তির অনুমোদন দেব না। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে প্রতিটি নিয়োগ অবশ্যই শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত হতে হবে। যদি নিয়োগ চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন করতে হয়, তবে সেটি নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, গত মাস থেকেই ন্যূনতম মজুরির এ বিধান মানতে বাধ্য করা হচ্ছে।
কিছু কিছু মানবাধিকার সংস্থা কাতারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটি মানবে কিনা, সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
তবে নুয়াইমি জোর দিয়ে বলেন, কাতারের প্রতিজ্ঞা এখানেই শেষ নয়। এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিজ্ঞা এবং তারা এ ব্যাপারে আরো উন্নতি করবেন। তিনি আরো বলেন, বিদেশী শ্রমিকরাই কাতারের অপরিহার্য অংশ। এগুলো কেবল প্রতিজ্ঞাতেই সীমাবদ্ধ নয়, কেননা আমরা বুঝতে সক্ষম হয়েছি আমাদের কী কী করতে হবে।
মানবাধিকারবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকুইডেমের নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা কাদরি ন্যূনতম মজুরির বিষয়টিকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’ বললেও এটি যথেষ্ট নয় বলে জানান। বেশির ভাগ শ্রমিক উচ্চসুদে নিয়োগ ফি দেন, যেটি এ বেতনে পরিশোধ করা মুশকিল বলে মনে করেন তিনি।





