তিস্তা নদীর তীর ঘেঁষে এক বামন পরিবারের বসবাস। পরিবারের বাবা-মা স্বাভাবিক হলেও ৪ ভাই-বোন জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী বামন। কথাবার্তা স্বাভাবিক হলেও তাদের শরীরের গঠন ও চলাচল অস্বাভাবিক।
তবে তারা প্রতিবন্ধী বামন হলেও জীবন সংগ্রামে পিছিয়ে নেই। কেউ জেলে। কেউ মুদি দোকানদার। কেউ চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা। কেউবা আবার গান শুনিয়ে আয় রোজগার করেন। সকলেই তাদের সংসারকে টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করেই চলছেন। দারিদ্রতা আর প্রতিবন্ধীকে জয় করে চলছে ওদের সংসার। সব মিলিয়ে অভাব অনটনের মাঝেও ওরা অনেক সুখী।
প্রতিবন্ধী এ পরিবারের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের নিজ গড্ডিমারী গ্রামে। তারা ওই গ্রামে দিনমজুর সোলেমান আলী ও শাহেরা বেগমের সন্তান। পাঁঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শুধু মমিরন (২৫) স্বাভাবিক। বাকি ৪ জনেই প্রতিবন্ধী বামন।
এদের মধ্যে সবার বড় ফরিদা আক্তার (২৯)। তারপর শাহ আলম হাবিল (২৭), রাশেদা খাতুন (২২) ও কাবেল মিয়া (২০)। মেজো মেয়ে মমিরন স্বাভাবিক হওয়ায় ৭ বছর আগে তার বিয়ে হয়ে যায়।
প্রতিবন্ধী চার ভাই-বোনের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ের ভাতা পাচ্ছেন। এসবের মাঝেও রাশেদা খাতুন নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছে পড়াশোনা মাধ্যমে।
ফরিদা আক্তার গড্ডিমারী এলাকার তালেব মোড় বাজারে একটি মুদির দোকান দিয়েছেন। সারাদিন তিনি দোকানদারি করেন। দিনে যা বিক্রি হয় সেই টাকা যোগ হয় সংসারের খরচে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী হয়ে কারো বোঝা হয়ে না থেকে আমি একটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মুদির দোকানটি চালু করেছি। দিনে ২শ-৩শ টাকা বিক্রয় হয়। লাভের অংশ দিয়েই সংসার চালাই।
শাহ আলম হাবিল। তিনি পেশায় জেলে। সারাদিন তিস্তায় মাছ ধরেন। ওই মাছ স্থানীয় তালেব মোড় বাজারে বিক্রি করে দুই ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রী রাহেলাকে নিয়ে চলছে তার সংসার। তবে তার স্ত্রী ও সন্তানরা স্বাভাবিক। হাবিল তাদের নিয়ে সুখেই আছেন বলে জানালেন।
রাশেদা খাতুন। শারীরিক প্রতীবন্ধকতার মাঝেই সে প্রাথমিক পেড়িয়ে মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ভালো ফলাফল করে তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন উচ্চশিক্ষা অর্জনের। রাশেদা বড়খাতা ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছর মানবিক শাখায় থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
তিনি জানান, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করবো। কিন্তু আমাকে কি কেউ চাকরি দেবে এমন প্রশ্ন তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করছে।
কাবেল মিয়া। তিনি উপজেলার গড্ডিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। পাশাপাশি তিনি গানের জোকারি করেন। বিভিন্ন জেলায় গিয়ে গান গেয়ে দাঁতের মাজন বিক্রয় করেন।





