নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক গৃহবধূর হাত-পা ভেঙে দিয়েছেন তাঁর স্বামী। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। বর্তমানে তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ শারমিন আক্তার কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভৈরব গ্রামের সাহিদ মিয়ার মেয়ে। বর্তমানে সাহিদ মিয়া চার মেয়ে, দুই ছেলসহ স্ত্রীকে নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও শহিদুল্লাহ মাস্টারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করছেন।

শারমিনের বাবা সাহিদ মিয়া জানান, তিনি বাদাম বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালান। সাড়ে তিন বছর আগে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে সেলিম মিয়ার সঙ্গে তাঁর মেয়ে শারমিনের বিয়ে হয়। অভাব-অনটনের মধ্যেও বিয়ের সময় মেয়েকে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। মেয়ের সংসারে বর্তমানে আড়াই বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। একপর্যায়ে টাকা দাবি করে তাঁর মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

এক মাস ধরে শারমিনকে ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ওই টাকা দিতে না পারায় শারমিনকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সাহিদ মিয়া আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যায় শারমিন। পরে পাষণ্ড স্বামী সেলিম মিয়া ও শ্বশুর মোজাম্মেল মিলে শারমিনকে ঘরে বন্দি করে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁর বাঁ হাত, দুটি পা ভেঙে ফেলে। পরে পিটিয়ে পুরো শরীর থেঁতলে দেয়। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী জানায়, আড়াই বছরের শিশুর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম হোসেন শারমিনের সঙ্গে তাঁর স্বামী সেলিম মিয়াকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওই ইউপি সদস্যের সিদ্ধান্তও মানেননি তাঁরা।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, এটা একটি অমানবিক বিষয়। এভাবে নির্যাতন করাটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। দ্রুত নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।