বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আসতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, তার জন্য জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা বলেন, কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে তো হবেই না। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ক্ষমতাসহ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। ইভিএম ব্যবহার চলবে না।
সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, ভোট কেন্দ্রে যান, দেখেন মানুষ কাদের ভোট দেয়।
জনগণের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যই বড় ঐক্য, বড় শক্তি। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ অপকর্মের সাহস পাবে না। যারা আপনাদের মঙ্গল চায় তাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ইনশাআল্লাহ, জয় আমাদের হবেই। আমরা দেশকে আবার উন্নত করে গড়ব। দেশে এখন ঘরে ঘরে মানুষের আহাজারি। মানুষ প্রতিনিয়ত নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে। এদের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের জুলুম ক্ষমা করে দেয়া হবে।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে রবিবার রাজাধানীর সোহরাওয়াদী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।
সমাবেশে আসতে নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, এ কাজের মাধ্যমে সরকার ছোট মনের পরিচয় দিয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, এরা যে এতো ছোট মনের আজকে তারা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রমাণ করে দিয়েছে। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। এরা মানুষকে ভয় পায়। এ জন্য ৭ নভেম্বর আমাদের জনসভা করতে দেয়নি।
রবিবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি জনসভাস্থলে প্রবেশ করেন। এসময় নেতাকর্মীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে-স্লোগানে স্বাগত জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম (ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে খালেদা জিয়া সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।
এর আগে, জনসভায় যোগদানের জন্য সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থান নেন।
দুপুর পৌনে ২টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।





