সকালে ঘাসের ডগায় শিশির ভেজা মুক্তকণা জানান দিচ্ছে শীতের। আর তাই শীতের আগমনে কুমড়া বড়ি তৈরিতে ধুম পড়েছে নওগাঁয়। এ মৌসুমে কুমড়া বড়ি তৈরি করে কিছুটা বাড়তি আয় করছেন এলাকার নারীরা।

উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ কাজ করে গ্রামীণ নারীরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে নওগাঁ জেলা শহরের মান্দা, সুলতানপুর মহল্লা, রানীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার প্রায় তিন হাজার গ্রামীণ নারী এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সারা বছরই কমবেশী কুমড়া বড়ি তৈরি হয়। তবে শীত মৌসুমে এটার চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষ করে আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ন এ তিন মাস।

কুমড়া বড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ মাসকালাই ও কুমড়া। বাজারে প্রতিকেজি মাসকলাই ৬৫-৭০ টাকা কেজি। একটি বড় আকারের কুমড়া ৪০-৪৫ টাকা। মাসকালাই প্রথমে রোদে শুকিয়ে যাতায় ভেঙে পরিষ্কার করে ৩-৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরসঙ্গে ৪-৫ কেজি ওজনের কুমড়া এবং ২০ টাকার মসলা দিতে হয়। এরপর সেটি শিল-পাটায় বেটে নিতে হয়।

 

মূলত ভোর ৫ থেকে শুরু হয় বড়ি বসানোর কাজ। কুমড়া বড়ি তৈরির পর ২-৩ দিন একটানা রোদে শুকাতে হয়। সূর্যের আলো একটু কম হলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। শুকিয়ে খাবার উপযোগী হলে হাট-বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়।

নওগাঁ মান্দা পার-ইনায়েতপুর গ্রামের শ্রী গোপেশ্বর বলেন, আট কেজি বড়ি তৈরিতে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হয়। প্রতি কেজি কুমড়া বড়ি ১৪৫-১৭০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি হয়। তবে আবহাওয়া একটু খারাপ হলে কুমড়া বড়ির রং হলুদ ও কালচে হলে তখন অনেক লোকসান গুনতে হয়।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক, মনোজিত কুমার মল্লিক বিডিমর্নিংকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাল কুমড়ার চাষ হচ্ছে। প্রতি বিঘাতে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার কুমড়ো বেচা কেনা হবে। যা অনেক লাভজনক। এই কুমড়ো চাষ মাত্র ১২০ দিনে হয়।