বহু আলোচনা-সমালোচনার মুখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিসিবি কার্যালয়ে তার পদত্যাগপত্র জমা পড়ে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বিষয়টি সিনিয়র ক্রিকেটারদের জানিয়েছেন।

এদিকে তার পদত্যাগের পর তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহলী প্রশ্ন। আজীবনের জন্য ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন নাকি দায়িত্ব নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কা দলের?

অভিযোগ রয়েছে- দল পরিচালনা, একাদশ নির্বাচন এবং মাঠের খেলা পরিচালনাতে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন হাথুরু। এসব বন্ধে চেষ্টা চালালে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে হয় নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে। এরপর দল নিজের মতোই পরিচালনা শুরু করেন কোচ হাথুরু। অধিনায়কের মতামত টুকটাক কানে নিলেও একাদশ নির্বাচনে কোচেরই ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য।

এ নিয়ে অধিনায়ক ও অন্য সিনিয়র অফিসিয়ালদের সঙ্গেও বিভিন্ন সময় সমস্যা হয় হাথুরুসিংহের। আর এসবের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। কোচের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির ফলেই অনেক ক্ষেত্রে দল সাফল্য পায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসবের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিলেন হাথুরুসিংহে।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নিতে পারেন হাথুরুসিংহে। অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়া শ্রীলঙ্কান এই কোচের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ গ্রাহাম ফোর্ড গত জুনে পদত্যাগ করার পর নতুন কোচের সন্ধানে আছে ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা।

৩৫ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই লঙ্কান মুশফিকদের কোচ হতে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ক্লাব সিডনি থান্ডার্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে ট্রেভর বেলিসের অধীনে জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদটিতে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তবে পরের বছরই শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়ে কানাডার কোচিং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে নিউ সাউথ ওয়েলসের সহকারী কোচ হিসেবে দু’বছরের চুক্তিতে যোগ দেন। তবে ২০১২-১৩ মৌসুমের মাঝামাঝিতে সিনিয়র কোচ অ্যান্থনি স্টুয়ার্ট বরখাস্ত হলে বাকি মৌসুমের জন্য থান্ডার্সের ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই লঙ্কান।

২০১৪ সালের মে মাসে হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ এবং পরবর্তী সময়ে তার অধীনে বাংলাদেশ দারুণ পারফর্ম করতে থাকে। ২০১৫ বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলেছে প্রথমবার। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ দল। এরপর ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে।

গত বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকার চুক্তি করেন হাথুরুসিংহে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে থাকা হাথুরুসিংহের অধীনে বাংলাদেশ বেশ উন্নতি করেছে, বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। টেস্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশে এবং শ্রীলঙ্কার মাটিতে জিতেছে।