চুল ঘন করা নিয়ে চিন্তাটা মেয়েরাই বেশি করে থাকেন। তাই আসুন আজ চুল ঘন করার জন্য দুটি প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জানি যেগুলিতে কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার চিন্তা নেই। সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন খানিকটা সময় বের করে নিয়ে নিম্ন বর্ণিত দুটো হেয়ার মাস্কের ব্যবহারেই পেতে পারেন ঘন, কালো ও উজ্জ্বল চুল।

১. ডিম ও অলিভ অয়েল-

চুলের ঘনত্ব ব্রদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।
যেভাবে তৈরী করবেন-
একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল (জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন( চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণ পেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।
০২. সরিষার তেল ও মেহেদী পাতা-
সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা চুল পড়া রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুন।

যেভাবে তৈরী করবেন-
২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে।

আঁচিল ত্বকের একটি সমস্যার নাম। আঁচিল ত্বকে একধরনের ভাইরাসের আক্রমণের কারণে হয়। এর নাম হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। এর কারণে আমাদের সুন্দর মুখে ভাটা পড়ে যায়।
আঁচিল সাধারণত গলায়, স্তন, আঙুলের ভাঁজে, চোখের পাতায় বা শরীরের স্পর্শকাতর ভাঁজে হয়ে থাকে। অনেক সময় আঁচিল এমনিতেই সেরে যায়। কেউ কেউ আবার আঁচিল সারাতে চিকিৎসকের পরামর্শও নিয়ে থাকেন। তবে সেটা বেশ সময় সাপেক্ষ।
কিন্তু আঁচিলের চিকিৎসা মোটেও অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি বা কোনো ওষুধ নয়। আঁচিলের ধরণ বুঝে তার চিকিৎসা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা আঁচিল সমস্যা সমাধানে নিরাপদ কয়েকটি ঘরোয়া উপায়ের কথা বলেছেন, নিম্নে তা আলোচনা করা হল :
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। তুলায় অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে দিনে ২ বার আঁচিলের ওপরে লাগিয়ে কিছু ক্ষণ রেখে দিন। চোখের পাতায় লাগালে খেয়াল রাখবেন যেন ভেতরে না যায়। পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ নিয়মটি অনুসরণ করলে দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই আঁচিল ঝরে পড়বে।
টি ট্রি ওয়েল
দ্রুত আঁচিল দূর করতে এটা অত্যন্ত কার্যকরী। বড় কসমেটিকসের দোকান বা সুপার শপিং মলে এই তেলটি পাওয়া যাবে। ভেজা তুলায় কয়েক ফোটা টি ট্রি ওয়েল নিন। তারপর আঁচিলের ওপর রেখে দিন ১০ মিনিট। এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করলে এক সপ্তাহের মধ্যে আঁচিল ঝরে পড়বে।
ক্যাস্টর ওয়েল ও বেকিং সোডা
এই দুই উপাদান মিশিয়ে একটা ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আঁচিলের ওপর লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। তবে রাতে লাগিয়ে সকালে ধুয়ে ফেললে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।