রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার তাজেন্দ্রপুর গ্রামের কায়েস উদ্দীনের ‘শেষ ইচ্ছা’ ছিল- ঘরের ভেতর ইট দিয়ে নির্মাণ করা পাকা কবরে সমাহিত হওয়া। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা তাই করলেন। ঘরের ভেতর ইট-সিমেন্ট দিয়ে কবর নির্মাণ করে সেখানেই সমাহিত করা হলো কায়েসকে।

মৃত কায়েস উদ্দীনের বাবার নাম মৃত এলাহী বক্স। কায়েস বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। তবে মসজিদে তার যাতায়াত ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাকে নিজের শোয়ার ঘরে পাকা কবর বানিয়ে সমাহিত করায় এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দাফনের পর কৌতুহলী অনেক মানুষ কবরটি দেখতে ভিড় জমান।

স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার বিকেলে মারা যান বৃদ্ধ কায়েস। এরপর তার সন্তানেরা ঘরের ভেতর পাকা কবর তৈরি করে দাফন শুরু করেন। এতে বাধা দেন গ্রামবাসী। ফলে ওই রাতে আটকে যায় কায়েসের দাফন। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা আবার তাকে ওই কবরে দাফনের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তবে দুপুরে শেষ পর্যন্ত কায়েসকে ওই কবরেই দাফন করা হয়। এর আগে বাড়ির উঠনে অনুষ্ঠিত হয় জানাযা।

কায়েসের বড় ছেলে আক্কাস আলী বলেন, তার বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল নিজের ঘরে পাকা কবরে সমাহিত হওয়া। তাই তারা এই কাজটিই করেছেন। কবরের চারপাশে তৈরি করা হয়েছে ইটের দেয়াল। গ্রামবাসী বাধা দিলেও তার বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় তারা খুশি।

কায়েসের বন্ধু নাজমুল ভান্ডারী জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে রশিদ ভান্ডারী নামে এক ‘পীরের’ অনুসারী হিসেবে মুরিদ হন কায়েস। তার বাড়িতে প্রতি বছর ২৭ আশ্বিন ওরশ পালন করা হতো। কায়েস মনে করতেন, পাকা কবরে দাফন হলে তার বাড়িটিও মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। তার সমমনা ব্যক্তিরা সেখানে আসবেন। এ জন্যই তার ইচ্ছা ছিল পাকা কবরে সমাহিত হওয়ার।