ভাগ্য ফেরাতে কাজের সন্ধানে বাংলাদেশিরা বিদেশ যাওয়া শুরু করে দেশ স্বাধীনের আগেই। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল থেকে বিদেশগামীদের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই বছর বিদেশে ৬ হাজার ৮৭ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হলেও চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩৩ জন।

আর ১৯৭৬ সাল থেকে এ বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৯১ হাজার ১৯১ বাংলাদেশির। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ১৩ শতাংশ। অথচ তাদের কল্যাণে গত সাড়ে ৪ দশকেও কোনো আইন প্রণয়ন হয়নি; গঠন করা হয়নি কোনো কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে এসব অভিবাসীকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন-২০১৭ প্রণীত হতে যাচ্ছে। গতকাল আইনটির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে গঠন করা হয় প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড। বহির্গমন অধ্যাদেশ-১৯৮২ বাতিল করে ২০১৩ সালে সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন প্রণয়ন করলেও প্রবাসীদের কল্যাণের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো উল্লেখ ছিল না।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি জানান, প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনমানের উন্নয়ন ও বহুমুখী কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ জন্যই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ।

তিনি বলেন, এটি একটি নতুন আইন। এতদিন বিধি দিয়ে চলছিল। প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড পরিচালনায় ১৬ সদস্য থাকবে, মেয়াদ হবে ৩ বছর। এটিকে একটি মহতী উদ্যোগ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, কর্মীদের দ্রুত সেবাদান ও হয়রানিমুক্ত করতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে এ সেবা আরও গতিশীল করা হবে। ২০১৫ সালের ১ জুন অনুষ্ঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক সভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন’ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আইনে যা থাকছে

এক. যুদ্ধাবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি লে-অফ বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির কারণে কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং ক্ষেত্রবিশেষে দেশে প্রত্যাবাসনে নিশ্চয়তা থাকছে।

দুই. প্রত্যাগত অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন। তিন. কর্মীদের সহায়তা প্রদানে বিমানবন্দরে ডেস্ক স্থাপন ও পরিচালনা। চার. কর্মরত কোনো অভিবাসীকর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হলে তাদের উদ্ধার, দেশে আনা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার নিশ্চয়তা দেওয়া।

পাঁচ. বিদেশে কর্মীর মৃত্যু বা পেশাগত কারণে অসুস্থ হলে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন আদায়, ইন্স্যুরেন্স ও সার্ভিস বেনিফিট আদায়ে সহায়তা ও নির্ভরশীলদের আর্থিক অনুদান প্রদান।
ছয়. কোনো নারীকর্মী নির্যাতনের শিকার, দুর্ঘটনায় আহত, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হলে তাদের উদ্ধার, দেশে আনা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার নিশ্চয়তা দেবে সরকার।