স্বল্প মজুরিতে কাতারে এসে যেন আর কোনো বাংলাদেশি কর্মী ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রত্যয়ন ছাড়া কোম্পানির কাজের ভিসায় কোনো বাংলাদেশি কাতারে আসতে পারবেন না। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত মজুরির চেয়ে কম মজুরিতে কোনো এজেন্সি কাতারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে পারবেন না।
এর ফলে এখন থেকে কাতারের কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাইলে প্রথমে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে ভিসা ও কর্মীর জন্য চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। দূতাবাস আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ও সত্যতা যাচাই করার পর অনুমোদন দিয়ে প্রত্যয়নপত্র দিলে এরপর ওই কর্মী কাতারে আসার সুযোগ পাবেন।
এতে যেসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা ভিসা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যয়ন না করার ক্ষমতা দূতাবাসের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো এক পত্রে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে এ সম্পর্কিত চিঠি পাঠানো হয়। এর ফলে কাতারের জন্য নির্ধারিত সরকার ঘোষিত সর্বনি¤œ মজুরির চেয়ে কম বেতনে কোনো বাংলাদেশি কর্মী কাতারে আসতে পারবে না।
ফলে কাতারে আসার পর হতাশা ও অল্প বেতনের প্রতারণা থেকে মুক্তি পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা। চুক্তিপত্র ছাড়া একজন বাংলাদেশি কর্মীও যেন আর কাতারে না যান, সে ব্যাপারে বিএমইটির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই পত্রে।
নতুন এই বাধ্যবাধকতার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভিড় করছেন বিভিন্ন কোম্পানির কর্তারা। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোম্পানির অনুমোদিত কর্মকর্তা এবং ভিসার সঙ্গে চুক্তিপত্র না থাকলে ভিসা প্রত্যয়ন করা হবে না।
কাউন্সেলর ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ অভিবাসন এবং কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করা অপরিহার্য।
আর এটি করতে হলে কর্মীর সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানে শ্রম চুক্তিপত্র ও এতে উল্লেখিত সুবিধাসমূহ যাচাই করা ছাড়া উপায় নেই। মান্যবর রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশ দূতাবাস বিদ্যমান জনশক্তি দিয়ে এ ব্যাপারে সর্বোত্তম সেবা দিতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, কাতারে অন্যান্য দেশের কর্মীরা যে পরিমাণ বেতনে কাজ করেন, এখন থেকে ওই একই কাজে বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের চেয়ে কম বেতন পাবেন না বলে আশা করছি।
পাশাপাশি কাতারে আসার পর কোনো কর্মী যদি তার চুক্তিপত্র অনুযায়ী কাজ বা বেতন না পান, সেক্ষেত্রে কর্মী চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বেলায় প্রয়োজনে দূতাবাসের সহযোগিতা পেতে পারেন। তিনি এ ব্যাপারে বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতা কামনা করেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন বাংলাদেশি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, কাতারে এখন প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি বাস করছে। অনেকে এসে চাহিদামতো কাজ পাচ্ছেন না। আবার অনেকের বেলায় কাজের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানেরও সন্ধান করতে পারছেন না।
এমতাবস্থায় চুক্তিপত্র না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েন অনেকে। দূতাবাসে ভিসা প্রত্যয়ন আবশ্যক করায় চুক্তিপত্রের ব্যাপারটি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এক্ষেত্রে প্রতারিত কর্মী প্রয়োজনে তাঁর চুক্তিপত্রের কপি পেতে দূতাবাসের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ পেলেন। তবে একে কেন্দ্র করে যেন অবৈধ অর্থের লেনদেন এবং দালাল চক্র গড়ে না ওঠে, সে ব্যাপারে দূতাবাসের কঠোর নজারদারির দাবি জানান তারা।





