বাংলাদেশের উইকেট মানেই ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক আর স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। কিন্ত আজ থেকে শুরু হওয়া বিপিএলের পঞ্চম আসরে উইকেট কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল আগেই।

স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্স অধিনায়ক নাসির হোসেনও জানতেন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট যে ব্যাটিং নির্ভর হতে পারে। শেষ পর্যন্ত নাসিরের ধারণাটা অনেকটাই সত্যি হল।

শুক্রবার দিনভর অনুশীলন শেষে নাসির হোসাইন বলেছিলেন, ‘আমার যতটুকু ধারণা এই মাঠে রান অনেক বেশি হবে। ‘

বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে নাসিরের দল সিলেট সিক্সার্সের ব্যাটিং দেখলেই তার ধারণায় সঙ্গে মিল পাওয়া যাবে। যদিও তাদের প্রতিপক্ষ গত বারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস বড় কোনো লক্ষ্য দিতে পারেনি। শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে মাত্র ১৩৬ রান তুলতে সক্ষম হয় সাকিবরা। জবাবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের অনায়াসে হারিয়ে দেয় সিলেট সিক্সার্স। ১২৫ রানে যখন প্রথম উইকেটের পতন হয় তখন জয় থেকে মাত্র ১২ রান দূরে নাসিরের দল। ৯ উইকেটের জয় আসে ১৬.৫ ওভারেই।

চা বাগান আর সবুজ গ্যালারিতে সুন্দরের রাজকন্যা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। একেবারে নবীন এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দল কিংবা বিদেশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। ২০১৪ সালে আইসিসি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের নারীদের ইভেন্টের মূল ভেন্যু ছিল এটি। নতুন এই স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ হয়েছে মাত্র এক বছর আগে। পিচগুলোও নতুন করে তৈরি হয়েছে। ৬ পিচের মধ্যবর্তী পূর্ব প্রান্তের উইকেটে ব্যাটিং করেছেন সাকিব-সাব্বির-নাসিররা।

উইকেট যে ব্যাটিং নির্ভর সেটা বোঝা গেছে ভেন্যু ম্যানেজার জয়দীপ দাসের কথায়। তিনি জানিয়েছেন, কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার তত্ত্বাবধানে পিচগুলো তৈরি করা হয়েছে। বগুড়া থেকে নিয়ে আসা মাটি দিয়ে তৈরি হয়েছে উইকেট।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, রকস্টোন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে উইকেট। দর্শকরা অধিক রানের ইনিংস পছন্দ করেন। সে বিষয়টি চিন্তায় রেখে উইকেট তৈরি করা হয়েছে।

সিলেটের এই ভেন্যুতে বিপিএল চলতি আসরের মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।