হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বারবার শিউরে কেঁদে উঠছিল নয় বছরের শিশু আলগুন খাতুন। মেয়ে হয়ে জন্মাবার অপরাধে সমাজের বোঝা কমাতেই বুঝি পাষণ্ড বাবা তাদের চার বোনকে নিশ্চিত হত্যার উদ্দেশ্যে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
তাদের মধ্যে তিনজন কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও একজনকে বাঁচানো যায়নি।মর্মান্তিক এই ঘটনা ব্যপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে সামাজিক মাধ্যমে।
ভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদসুত্র মতে, ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, গত ২৩ অক্টোবর মাঝরাতে কাটরা এক্সপ্রেসে করে জম্মু যাওয়ার পথে লখনউ থেকে ৯০ কি. মি. দূরে সীতাপুরের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে ৪ মেয়েকে ছুঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করে তাদের মা আফরিনা খাতুন। পরে তাদের মায়ের জবানবন্দির ভিত্তিতে ইদ্দু মিঞা নামে ওই পাষণ্ড বাবাকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে সেখানকার পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, বিহারের মোতিহারির বাসিন্দা ইদ্দু মিঞা জম্মুতে দিনমজুরের কাজ করে। ছুটি কাটিয়ে সে স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে জম্মু ফিরছিল। ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে সীতাপুরের ওপর দিয়ে ট্রেনটি যাওয়ার সময় তার চার মেয়ে আলগুন, রাবিয়া, মুনিয়া ও শামিনাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। এ সময় দুই বছরের ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন ইদ্দুর স্ত্রী আফরিন।
পরে ঘুম থেকে উঠে মেয়েরা কোথায় জিজ্ঞেস করলে ইদ্দু বলে তাদের ফেলে দিয়েছে। চেঁচামেচি করলে তাদের দুজনকেও ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হবে। এরপর জম্মু পৌঁছে তাকেও স্টেশনে ফেলে চলে যায় ইদ্দু। পরে সেখান থেকে কোনওমতে বিহারের পশ্চিম চম্পারনে নিজের বাপের বাড়িতে ছোট মেয়েকে নিয়ে ফিরে আসেন আফরিন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ইদ্দুকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে জম্মুতেও একটি টিম পাঠান হয়েছে। জম্মুতে যেখানে সে থাকে সেই বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।





